বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

ইরানে হামলা: কেন? কার লাভ কার ক্ষতি!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পৃথিবীর যে-কোনো খেলাতেই এক পক্ষ জেতে অপরপক্ষ হারে। কিন্তু যুদ্ধ নামের খেলায় দুঃখজনকভাবে হারে নিরীহ জনগণ। উভয়পক্ষেরই প্রচুর প্রাণহানি ঘটে। যারা যুদ্ধবাজ, যুদ্ধ করা তাদের নেশা, পেশাও বলা যায়। সুতরাং প্রাণহানি ঘটলেই বা কি! খেলা তো উপভোগেরও বিষয়। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনাবেচার মার্কেট হলো যুদ্ধের অঙ্গন, উপভোগ্য তো হতেই হবে।

যারা এই প্রোডাক্টের ম্যানুফ্যাকচারার তারা তাদের পণ্য বিক্রির জন্য যে বিজ্ঞাপন বিশ্বব্যাপী ছড়ায় তা হলো মিথ্যাচার, বিচ্ছিন্নতার বীজ রোপন, পারস্পরিক শত্রুতা সৃষ্টি করার হাজারো বাহানা তৈরি করা, জুজুর ভয় দেখানো ইত্যাদি। মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতার মতো সস্তা কিছু তত্ত্ব তাদের এ কাজের হাতিয়ার। অ্যাপস্টেইন ফাইল আর গাজার গণহত্যার ঘটনার পর তাদের ওইসব মুখরোচক বুলি যে হাস্যকর তা বোধ হয় বলারই অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু যেখানে ওই ইস্যুগুলো কাজে আসে না সেখানে জুজুই ভরসা।

কাল্পনিক শত্রু বানিয়ে ভয় দেখিয়ে সেই শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অস্ত্রশস্ত্রসহ ঘাঁটি তৈরির সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্থায়ী নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় স্থাপন করা পরাশক্তিগুলোর ওই বিজ্ঞাপনের মূল টার্গেট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা এভাবেই জুজুর ভয় দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তির বিস্তার ঘটাতে শুরু করে। রাশিয়া তখন ছিল মস্ত এক শ্বেত ভাল্লুকের মতো জুজু। ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হবার পর এবং সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর জুজুর পরিচয় পাল্টে যায় তবে অস্তিত্ব হারায় না।

ইরান তখন নয়া জুজু হয়ে ওঠে। কেন? এক সময় ইরান তাদেরই ছিল। এখন তারা আবারও বুঝে নিতে চায়। কী আশ্চর্য! বিভিন্ন দেশে বিচিত্র নামে প্রতিরোধ ফ্রন্ট গড়ে তুলে ইরান ইসরাইলের স্বার্থ চরিতার্থ করতে দিচ্ছে না। কী করে সম্ভব! তারা আবার নাকি বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিচিত্র টেকনোলজিতেও এগিয়ে যাচ্ছে। এটা হতে দেওয়া যায় না। সুতরাং কুকুরের গলায় ‘পাগলা’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দাও, তারপর মেরে ফেলো-সমস্যা নেই, জায়েজ।

পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোকে ওই ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে দশকের পর দশক ধরে। বিশ্বব্যাপী পশ্চিমা মিডিয়ার মিথ্যাচার আকণ্ঠ গিলে তারাও ঘুম পাড়ানিয়া যাদুর কাঠি মানে জুজুকে বধ করার জন্য যত অত্যাধুনিক হাতিয়ার প্রয়োজন সেগুলো পেট্রোডলার দিয়ে কিনে কিনে মজুদ করে রেখেছে। ওই হাতিয়ার কীভাবে চালাতে হয়? শিখতে হলে প্রশিক্ষক দরকার। প্রশিক্ষক এলো অস্ত্রের সাথে। তাদের থাকা-খাওয়া, আরাম-আয়েশ, ফূর্তি-মাস্তির সকল রাজকীয় ব্যবস্থার দায়িত্ব তো নিতেই হবে। ওস্তাদকে তো সম্মানও দেখাতে হয়। সম্মানিও দিতে হয়। 

ভোগ-বিলাসী একটি জাতি প্রায় এক শতাব্দি ধরে এভাবেই মিথ্যার বেড়াজালে আটকে ছিল এবং এখনও যে নেই তা বলা যাবে না। লাভ কার? ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার তথাকথিত অজুহাতে বিন-লাদেনের মেজবান আফগানিস্তান দখল করে নেয় তারা। তারপর দখল করে ইরাক। পশ্চিম এশিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করার সেই বন্দোবস্তের এটা একটা অর্জন তাদের। 

যেই ইরান ইসলামের নামে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে পেট্রো-প্রোডাক্টসের খনি ইরানকে তাদের হাতছাড়া করলো সেই ইরানকে তো আবার দখল করতে হবে। কিছুতেই তাদেরকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেওয়া যাবে না। প্রথমেই শুরু করা হলো তৎকালীন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। আট বছর ধরে চললো সেই যুদ্ধ। সদ্য অর্জিত বিপ্লবের পর বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অনেকটা খালি হাতেই যুদ্ধ করলো ইরান। তবু জাতিসংঘের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলো, হার মানলো না ইরান। সেই ইরানকে হাজারো অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের তত্ত্ব ইত্যাদি প্রয়োগ করেও দমানো গেল না। 

বিশ্বের বর্তমান নমরুদ যে কিনা নিজেকে খোদা বলে মনে করে, তার কথায় উঠে-বসে না-এ তো মেনে নেওয়া যায় না। নমরুদের পশ্চিম এশিয় প্ররোচক ইহুদিবাদীদের কলঙ্ক বিন-ইয়ামিনও দেখলো যে তার খামখেয়ালিপনা চরিতার্থ করার পথে একমাত্র বাধা প্রতিরোধ শক্তি। আর ওই প্রতিরোধ শক্তির নেপথ্য প্রেরণা ইরান। সুতরাং পথের কাঁটা না সরালে তো সামনে এগুনো যাবে না। প্রতিরোধ শক্তিগুলোর আধ্যাত্মিক নেতাকে আগে ধরতে হবে। তাই হলো। সর্বোচ্চ নেতাকে শহীদ করা হলো। শহীদ করা হলো অসংখ্য শাহাদাত পিয়াসী গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকেও।

তাতে কী হলো? আধ্যাত্মিক নেতার শাহাদাত মেনে নিতে পারলো না ইরানের শিয়া অধ্যুষিত জনগোষ্ঠি। কীভাবে মেনে নেবে, ধর্মীয় নেতা বলে কথা। ইসরাইল-আমেরিকা এই কাজটি করে চরম ভুল করেছে বলে আমি মনে করি। কারণ তারা প্রত্যাশা করেছিল ইরানের ইসলামি শাসন-ব্যবস্থার বিরোধী পক্ষ সর্বোচ্চ নেতার অবর্তমানে তাদের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসবে। কিন্তু তারা ধর্মীয় নেতার শাহাদাত মেনে নিতে পারছিল না। শিয়াদের ধর্মীয় নেতা অনুসারীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ রোজা করুক বা না করুক, ধর্মীয় নেতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান ভিন্নরকম। এখানে পরকালীন মুক্তির প্রশ্ন জড়িত। ইসলামি শাসনব্যবস্থার সাথে ধর্মীয় নেতার অনুসরণ জড়িত নয়। সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেও ধর্মীয় নেতার অনুসরণ অবশ্যম্ভাবী।

যাই হোক, পরোক্ষ আলোচনা চলছিল আমেরিকার আগ্রহে। ইরান রাজি ছিল না। কারণ বিগত বারো দিনের যুদ্ধের আগেও আলোচনা হয়েছিল। কোনো লাভ হয় নি। পরে ভাবলো আলোচনায় না বসলে বিশ্ববাসী ভুল বুঝবে। তাই আলোচনায় বসলো কিন্তু ইরানের কোনো আস্থা কিংবা বিশ্বাস ছিল না আমেরিকার ওপর। বিগত জুনের বারো দিনের যুদ্ধও আলোচনার মাঝেই শুরু করা হয়েছিল। 

তবে এইবার সেই পরিস্থিতি নেই। ইরান প্রতিবেশি ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোসহ আঞ্চলিক মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ব্যাপক কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে এসেছিল। চাওয়া একটাই। সহযোগিতার দরকার নেই, অভিন্ন শত্রুকে ভূমি ব্যবহার করতে না দিলেই হবে, ব্যস। সব মিত্র এবং বন্ধুরাষ্ট্রই মোটামুটি রাজি। কিন্তু ইরান বলে দিয়েছে শত্রুরা যেই স্থান থেকে হামলা চালাবে সেই স্থান হবে আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। 

ভিয়েনা আলোচনায় মামার বাড়ির কিছু আবদার করলো প্রতিপক্ষ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা যাবে না, পরমাণু তৎপরতা বন্ধ করতে হবে, মিসাইল কর্মসূচি চলবে না-ইত্যাদি ইত্যাদি। ইরান কী করে রাজি হয়? হয়তো দেশে আসার পর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরামর্শ করে ভারসাম্যপূর্ণ একটা জবাব দেওয়ার চিন্তা করা হতেও পারতো। কিন্তু সেই সুযোগ পেল কই। আগে থেকেই আলোচনায় আবদারগুলো মেনে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে ইরানের চারপাশে সমর সজ্জার আয়োজন করা হলো। কিন্তু ইরান অযৌক্তিক কোনো দাবির কাছে নতি স্বীকার করলোই না। উইটকফ ফক্স নিউজকে বলেছিলেন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে সকালবেলা ফোন করে বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এত ভয়ভীতি, এত চাপ সৃষ্টির পরও ইরান কেন নত হলো না? উইটকফ টিভির পর্দায় হাসলেন, উত্তর দিলেন না। 

গেল শনিবার থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। যুদ্ধ হলে যা হয়-প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি। উভয় পক্ষেরই হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু এইবার একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটেছে। ওই যে বলেছিলাম প্রতিবেশি ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোসহ আঞ্চলিক মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইরানের ব্যাপক কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছিল এবং বলাও হয়েছিল যেই স্থান থেকে হামলা হবে সেই স্থান হবে আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। সেই কথা রেখেছে ইরান। মিডিয়ার কল্যাণে আপনারা জেনেছেন যে ইরান পার্শ্ববর্তী বহু দেশে শত্রুদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা ছিল শত্রুদের কাছে অভাবনীয়।

হামলা চলছে এবং চলবে। যারা গ্যালারিতে বসে হারজিতের ফলাফলের জন্য উদগ্রিব হয়ে বসে আছেন তাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। কারণ একপক্ষ মানে ইরান এক্ষুণি যুদ্ধবিরতিতে যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য তাদের সেনাদল সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দায়িত্বশীল পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলে আসছেন। তবে গ্যালারির দর্শকদের একেবারে হতাশও করবো না, এ পর্যন্ত যা ঘটেছে তা পর্যালোচনা করে একটা পূর্বাভাস তো দেওয়া যেতেই পারে।

আমরা বলতেই পারি যে মার্কিন কৌশলগত সাফল্যের পরিবর্তে ব্যর্থতাই বরং বেশি। আমি ইরানে থাকি বলে বলছি? না। তাহলে কী কারণ?প্রথমত বলা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় এক শতাব্দি ধরে আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় যে সামরিক আধিপত্য তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল মাত্র ক’দিনের যুদ্ধে সেগুলোর প্রায় সবই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সফল লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই ঘটনার একটা সুদূরপ্রসারী পরিণতি রয়েছে: শক্তি খর্ব হওয়ার ব্যাপারটা তো রয়েছেই, গর্বও চূর্ণ কি হয় নি? 

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির একটা কারণ তো ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে শত্রু তথা জুজুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। বাস্তবে তো হলো উল্টো। বরং আমেরিকার উপস্থিতিই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি এবং হামলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে যাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল সেই মার্কিন সেনারা কিছুই করতে পারে নি। তাদের দুর্বলতা চরমভাবে ফুটে উঠেছে। বিষয়টা কি জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করবে না! 

যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল সেইসব বাহিনীর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আধিপত্য বিস্তার সহজতর হবার কথা ছিল, এখন সেটা কি একটু হলেও ধাক্কা খাবে না! তারচেয়ে বড় কথা হলো যেহেতু মার্কিন বাহিনী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে বরং তাদের স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সুতরাং সেইসব দেশ এখন আমেরিকার ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে স্বাধীন প্রতিরক্ষা বাহিনী জোরদার করার দিকে মনোযোগী হয়ে এগিয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় হলো এশিয়ায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলো রাশিয়া এবং চীন। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে ওই দুটি দেশকে তারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতো। এখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনুপ্রবেশ সহজতর হবে। 

এসবের বাইরেও বড় যে ক্ষতিটা আমেরিকার জন্য হলো তা হলো এ অঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরাইলকে বসিয়ে আমেরিকা চেয়েছিল পশ্চিমা শক্তিকে স্থানীয়করণ করতে। সেটা এখন বিপরীত হয়ে গেল। নেতানিয়াহু নিজের দুর্নীতি আর আইন-আদালতের খড়গ থেকে নিজেকে বাঁচাতে যুদ্ধের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই তার। সে কারণে ইরানে হামলার ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে এসে বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করে দিলো যে ইসরাইলই আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে এনেছে এবং তার ফলে আমেরিকার সুদূরপ্রসারী স্বার্থ ব্যাহত হলো। আমার এই বিশ্লেষণটি অনেকের কাছেই হয়তো গ্রহণযোগ্য হবে না জানি, তবু সত্য যে কঠিন, সময় একদিন তা সহজ করে দেবে। 

আমেরিকার আরেকটি ক্ষতি হলো বলে মনে হয়। সেটা হলো তারা চেয়েছিল ইরানকে দুর্বল করে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু গৃহীত পদক্ষেপ সেই লক্ষ্যের বিরুদ্ধে গেছে বলে কি মনে হচ্ছে না! হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের স্বাধীন যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বলা চলে ওই প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি ইরানের হাতে। ওই প্রণালী কিছুদিন বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে তার বিরুপ প্রভাব কতোটা পড়বে তা সচেতন মহলের অজানা নয়।

এবার ইরান প্রসঙ্গে আসা যাক। আমেরিকার ক্ষতি মানেই যে ইরানের সবটাই লাভ তা বলা যাবে না। রাহবার মানে সুপ্রিম লিডার থেকে শুরু করে সামরিক বেসামরিক বহু কর্মকর্তাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণহানি তো দাঁড়িপাল্লায় মাপা যাবে না। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং প্রতিদিনই হচ্ছে। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার, প্রতিরক্ষা স্থাপনা, আবাসিক এলাকাও মারাত্মকভাবেই আক্রান্ত হয়েছে। তবে ইসরাইলের অভ্যন্তরে যেভাবে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, সেটা সর্বোচ্চ নেতাকে হারানো ইরানিদের সান্ত্বনা দেয় অনেকাংশে। 

বিশ্বে আমার মতো শান্তিকামী মানুষই বেশি। তারা যুদ্ধ, প্রাণহানী এসব চায় না। এমনকি স্বয়ং মার্কিন জনগণও। এরইমধ্যে ট্রাম্পের দেশের চিন্তাশীল মানুষেরাই প্রশ্ন তুলছেন-এই যুদ্ধে আমেরিকার কী লাভ? পতিত স্বৈরাচারী শাহের ছেলেকে দিয়ে ইরানের সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা? সেটা মনে হয় সম্ভব হবে না। তাহলে? হিসেব নতুন করে কষতে হবে।

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৩:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit