শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

রমজানে রোজাদারের দোয়ার গুরুত্ব

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪২ Time View

ডেস্ক নিউজ :মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও অনুগ্রহে রমজানকে বানিয়েছেন রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে একটি অমূল্য রত্ন হলো রোজাদারের দোয়া। রোজা যেমন দেহকে সংযমে অভ্যস্ত করে, তেমনি অন্তরকে নরম করে তোলে; সে সময় মানুষের অন্তর অনেকটা ভাঙা অন্তরের মতো হয়ে যায়। আর ভাঙা হৃদয়ের দোয়া আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত। নিম্নে দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো—

রোজা ও দোয়ার গভীর সম্পর্ক
রোজা ও দোয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কারণ মহান আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়াও একটি ইবাদত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭৯) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো জিনিস নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮২৯)

রমজানে মুমিনের করণীয়ই হলো, যেকোনো মূল্যে মহান আল্লাহকে খুশি করার চেষ্টা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমার নিকট জিজ্ঞেস করে, আমি তো (তাদের) নিকটেই, আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই; সুতরাং তাদের উচিত আমার নির্দেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি ঈমান আনা, যাতে তারা সরলপথ প্রাপ্ত হয়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৬)

এ আয়াতটি রোজার আয়াতগুলোর মাঝখানে এসেছে, যেন ইঙ্গিত করছে, রোজা ও দোয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রোজা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়; আর নৈকট্যই দোয়া কবুলের অন্যতম কারণ।

রোজাদারের দোয়া অব্যর্থ প্রতিশ্রুতি
মহান আল্লাহ তাঁর বিশেষ কিছু বান্দার দোয়া প্রত্যাখ্যান করেন না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির  দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না, ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোয়া মেঘমালার ওপরে তুলে নেবেন এবং তার জন্য আসমানের দ্বারগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং আল্লাহ বলবেন, আমার মর্যাদার শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, একটু বিলম্বেই হোক না কেন।
(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২) এবং এই মাসের প্রতিটি রাতেও আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ অনুগ্রহে অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, …আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও; হে অকল্যাণের প্রার্থী, থেমে যাও।
আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৮৭৯৪)

রমজানের রাতের দোয়া
পবিত্র রমজানে একটি রহস্যময় ও ফজিলতপূর্ণ রাত রয়েছে। আর তা হলো লাইলাতুল কদর। কিন্তু কেউই সে রাতের সঠিক তারিখ জানে না। মুমিনের উচিত রমজানের প্রতিটি রাতেই লাইলাতুল কদরের ফজিলত পাওয়ার আশায় দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদি করা। কারণ আমরা কেউই নির্দিষ্ট করে জানি না, সে রাতটি কোন রাত। তাই সে রাতের কল্যাণ অর্জনের জন্য রমজানের প্রতিটি রাতকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান এলেই আল্লাহর রাসুল (সা.) সাহাবাদের বলতেন, ‘তোমাদের কাছে এই মাস সমাগত হয়েছে, তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃত পক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। একমাত্র দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’
(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪৪) মহানবী (সা.) এই রাতের কল্যাণ লাভের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। যদি কোনো ব্যক্তি রমজানের প্রতিটি রাতে এই দোয়ার আমল করে, তাহলে তার লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি কদরের রাত পেয়ে যাই তবে কী দোয়া পড়ব? তিনি বলেন, তুমি বলবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৫০) তাই প্রত্যেক রোজাদারের উচিত রমজানের দিনগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করা।

কিউএনবি/অনিমা/০৬ মার্চ ২০২৬,/সকাল ৬:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit