আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেৎজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি আদালত। কারাগারটিতে গাজা উপত্যকা থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের রাখা হয়েছে।
সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের উদ্যোগে কারাগারের একটি অংশের চারপাশে পরিখা খনন করে সেখানে কুমির রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিম্যালস লিভ’ এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আবেদন করার পর রবিবার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিচারক আভ্রাহাম রুবিন কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলম্যানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কুমিরগুলোকে কারাগারে স্থানান্তর বা রাখার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলম্যান কুমিরগুলোকে ‘যত্নপ্রাপ্ত বন্য প্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিলেন।
কেএএন জানায়, সিলম্যান, বেন-গভির এবং ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতের এই আদেশ আসে। আদালতের অস্থায়ী আদেশটি কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতে তাদের জবাব জমা দেয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হতে পারে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী সিলম্যানের গত ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত। ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কারাগারে কুমিরকে ‘প্রতিরোধক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে ব্যবহারের পথ তৈরি করা হয়েছিল।
আবেদনকারী সংগঠনটির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিরের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর থাকা নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা শিথিল করা হয়েছে।
কেএএন’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কারাগারের চারপাশে খাল খননসহ কিছু অবকাঠামোগত কাজ শুরু করেছে। এ পাইলট প্রকল্পের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ২১ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘লেট দ্য অ্যানিম্যালস লিভ’ এবং তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস অ্যান্ড অ্যানিম্যাল রাইটস ক্লিনিক’ আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই আদেশের ফলে আপাতত এমন কোনো অপরিবর্তনীয় কাজ করা যাবে না, যা প্রাণীদের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তারা পরিকল্পনাটি স্থায়ীভাবে বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেন-গভির ২০২২ সালের শেষ দিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ফিলিস্তিনি বন্দীদের আটক পরিস্থিতি আরও কঠোর করার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্দীদের অনাহার, চিকিৎসায় অবহেলা, নির্যাতন ও দীর্ঘমেয়াদি নির্জন কারাবাসের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশুসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েক ডজন অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসার অবহেলার কারণে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
কিউএনবি/অনিমা/০৩ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০৭