আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের পানি ফেলার বিশেষ বিমান ও হেলিকপ্টার। এর আগের দিন আগুন নেভানোর অভিযানে যুক্ত দুটি ফায়ারফাইটিং হেলিকপ্টারের মধ্যে আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন গ্রিক ও একজন ড্যানিশ নাগরিক। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অপর কপ্টারে থাকা গ্রিক ও ব্রিটিশ নাগরিক হালকা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সপ্তাহান্তে তীব্র বাতাসের কারণে পাইন বন ও ঝোপঝাড়ে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সোমবার বাতাসের বেগ কিছুটা কমে আসায় প্রায় পাঁচশত ফায়ার সার্ভিস কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের আশা দেখছেন। তা সত্ত্বেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে রাজধানী সংলগ্ন অ্যাটিকা অঞ্চলকে এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লোকালয় রক্ষায় ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চল থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে উপকূলীয় এলাকার বহু মানুষকে সমুদ্রপথে উদ্ধার করা হয়। আগুনের অগ্রযাত্রা থামাতে বনাঞ্চলের গাছ কেটে অগ্নিনির্বাপক পথ তৈরির কাজ চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একটি বেসরকারি উইন্ড জেনারেটর কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে ত্রুটির কারণে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও এক ঠিকাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রিসে তীব্র গরম ও অবহেলার কারণে প্রতি গ্রীষ্মেই এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকে।
এদিকে, ফ্রান্স ও স্পেনেও গ্রীষ্মকালীন দাবানল পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ফ্রান্সে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও শত শত বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দুই লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
সূত্র: এপি
কিউএনবি/অনিমা/০৩ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৩৫