আসাদুজ্জামান আসাদ দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে চাঞ্চল্যকর এক শিশু হত্যা ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামী আমানুল ইসলাম আমান(২২) বিচারের নিকট স্বীকারোক্তি মূলক জবাবদিহি প্রদান করেছে। রোববার দুপুর আড়াই টায় দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) মোঃ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আমরুলবাড়ী ডাঙাপাড়া গ্রামে মোঃ মমিনুল ইসলামের ৭ বছর বয়সী শিশু সিরাজুল আল সামসকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশু সামসের চাচাতো ভাই মোঃ মজিদুল ইসলামের পুত্র আমানুল ইসলাম আমানকে (২২) শনিবার বিকালে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আমানের জবানবন্দি অনুযায়ী চাচীর প্রতি তার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। চাচার সম্পত্তির লোভ থেকেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমানের দাবি, তার চাচী তাকে অবহেলা করতেন।
অন্যদিকে চাচাতো ভাই সামস ও তার পরিবার ভালোভাবে জীবন-যাপন করায় তার মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষ তৈরি হয়। ঘটনার দিন গত ২৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাত ৮টায় আমান একটি পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কথা বলে চাচীর বাড়িতে যায়। সেখান থেকে কৌশলে সামসকে বাইরে ডেকে বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসার কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে শ্বাসরোধ করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে আমান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
আসামী আমানুল শিশু সামসকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই গ্রামের আবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে আসে। পরবর্তীতে সামসের মা মর্জিনা বেগম তার শিশু পুত্রকে খুঁজতে গিয়ে আমানের কাছে জানতে চাইলে, সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শনিবার সকালে ওই গ্রামের আবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেত থেকে সামসের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশু সামস এর মৃত্যু দেহ উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন হত্যা ঘটনায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহত শিশু সামস এর আপন চাচাতো ভাই আমানুল ইসলাম আমানকে শনিবার বিকালে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে সে এই হত্যা ঘটনার বিষয় তার অপরাধ স্বীকার করে। তার নিকট থেকে হত্যা ঘটায় ব্যবহৃত কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। আমান মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অপরাধ জনিত সিরিয়াল দেখা তার নেশা হয়ে গেছে বলে, সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
এই চঞ্চল্যকর শিশু হত্যা ঘটনায় তার পিতা মোঃ মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার বিকালে জেলার নবাবগঞ্জ থানায় আমানুল ইসলাম আমানকে আসামী করে একটি হত্যা মামলায় দায়ের করেছেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় গ্রেফতারকৃত আসামী আমানুল ইসলাম আমানকে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশিক উদ্দিন এর আদালতে সোপর্দ করে তার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়। আমান বিচারকের নিকট স্বেচ্ছায় তার এই হত্যা ঘটনার অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দী প্রদান করেছে। দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, বিচারক তার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন। জবানবন্দী শেষে তাকে দিনাজপুর জেল কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।