গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দেয়ার অভিযোগ তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় চাঁদ দেখা না গেলেও তাদের দাফতরিক ক্যালেন্ডার বজায় রাখতে রমজান ও ঈদের ঘোষণা দিয়ে দেয়।
২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় এই বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছিল। তৎকালীন সময়ে কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, সেই রাতে আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেউ চাঁদ দেখে থাকলে তিনি তার প্রমাণ বা ছবি দাবি করেছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট ছবি দেখাতে না পারলেও পরদিন ঈদ ঘোষণা করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমালোচনা হয়।
ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও ‘নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ জানান, সৌদি আরব প্রায়ই এমন দিনে চাঁদ দেখার দাবি করে যা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। ইমাদ আহমেদের মতে, প্রতিবছর মাত্র দু-তিনজন ব্যক্তির দাবির ওপর ভিত্তি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতেও চাঁদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
যুক্তরাজ্যের মতো যেসব দেশে নিজস্ব চাঁদ দেখা কমিটি নেই, সেখানকার অনেক মুসলমান সৌদির ঘোষণা অনুসরণ করেন। তবে স্থানীয় স্কলাররা এখন সৌদির ওপর নির্ভর না করে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর চাঁদ দেখার সংবাদ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন।
মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করায় সাধারণত মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরব আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বুধবারের আগে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
কিউএনবি/খোরশেদ/১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/দুপুর ১:৪০