স্পোর্টস ডেস্ক : বর্জনের হুমকি, রাজনৈতিক সংকেত ও দফায় দফায় আলোচনার কয়েকটি দিন পার করে ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ বড় ঝড় সামলে নিয়েছে। আইসিসির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ম্যাচ ফিরে এসেছে আরেকটি বৈশ্বিক সূচিতে।
দুই প্রতিবেশী দেশের তিক্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের নিচে চাপা পড়েছে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট। এমনকি এশিয়া কাপের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্টও দুই দেশের রাজনীতিতে ঢাকা পড়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসি কোনো বৈশ্বিক ইভেন্ট এলেই দুই দলকে একই গ্রুপে ফেলে। নকআউটেও যেন দুই দলের দেখা হয়, সেভাবে ছক কষে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা। এমন ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র কারণ সূচির বাণিজ্যিক আকর্ষণ। এই একটি ম্যাচই কখনো কখনো পুরো টুর্নামেন্টের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অঢেল স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন ও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা— যাকে বলা হচ্ছে ক্রিকেটের ‘এল ক্যাশিকো’। ক্যাশ বা অর্থের ধারণা থেকে এই শব্দের উৎপত্তি। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতাকে অন্যপাশে সরিয়ে অর্থের ঝনঝনানি বাজিয়ে মাঠে নামছে দুই দল।
ভারত-পাকিস্তান এখনো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আয়ের খাত। যে কোনো ফরম্যাটে দুই দলের ম্যাচ মানে বিপুল টেলিভিশন দর্শক এবং প্রচারিত বিজ্ঞাপন থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা আয়। এই ম্যাচের মূল্য আনুমানিক ২৫ কোটি ডলার। তাই তো বয়কট থেকে পাকিস্তানকে ফেরাতে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অংশীদার তৎপরতা দেখিয়েছে। সমস্যার সমাধানের পর আইসিসি, শ্রীলঙ্কা ও ব্রডকাস্টাররা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘টাকার চাকা’ যে ফের চালু হয়েছে।
অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে থেকেও দুই দলই মাঠে তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছে। উভয় দলই ‘এ’ গ্রুপে দুটি ম্যাচ খেলে ২-০ ব্যবধানে সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে এই ম্যাচটি কখনো পয়েন্ট বা নেট রান রেটে সীমাবদ্ধ ছিল না, থাকবেও না। এর অস্তিত্ব টিকে থাকে আবেগের বলয়ে। রোববার ইতিহাস ও আভিজাত্যের দিন। গ্যালারি থেকে দর্শক-সমর্থকদের গর্জন ও ড্রেসিংরুমের উত্তেজনার সম্মিলনে এক আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
মাঠের বাইরের উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা মহসিন নাকভি কলম্বোয় এসেছেন পাকিস্তানকে উৎসাহ দিতে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ কখনোই ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতি, অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। চার ঘণ্টার লড়াই শেষে এর প্রভাব আরও কত বিস্তৃত হবে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
কিউএনবি/খোরশেদ/১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:০০