বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

মাঠের বাইরে রাজনীতি, কলম্বোয় এবার ক্রিকেটের ‘এল ক্যাশিকো’

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : বর্জনের হুমকি, রাজনৈতিক সংকেত ও দফায় দফায় আলোচনার কয়েকটি দিন পার করে ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ বড় ঝড় সামলে নিয়েছে। আইসিসির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ম্যাচ ফিরে এসেছে আরেকটি বৈশ্বিক সূচিতে।

বরাবরের মতো আবারো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হচ্ছে সন্ধ্যায়। ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ, যার কাছে টুর্নামেন্টের অন্য ম্যাচগুলোর গুরুত্বে রয়েছে আকাশ পাতাল তফাৎ। ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের লোকগাঁথা সমৃদ্ধ ও স্থায়ী। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাঁজে ভাঁজে ইতিহাস, উত্তেজনা, চমৎকারিত্ব ও হৃদয় ভাঙার গল্প। রাজনীতিকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে সেই গল্প আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে আজ সন্ধ্যায় কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

দুই প্রতিবেশী দেশের তিক্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের নিচে চাপা পড়েছে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট। এমনকি এশিয়া কাপের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্টও দুই দেশের রাজনীতিতে ঢাকা পড়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসি কোনো বৈশ্বিক ইভেন্ট এলেই দুই দলকে একই গ্রুপে ফেলে। নকআউটেও যেন দুই দলের দেখা হয়, সেভাবে ছক কষে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা। এমন ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র কারণ সূচির বাণিজ্যিক আকর্ষণ। এই একটি ম্যাচই কখনো কখনো পুরো টুর্নামেন্টের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অঢেল স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন ও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা— যাকে বলা হচ্ছে ক্রিকেটের ‘এল ক্যাশিকো’।  ক্যাশ বা অর্থের ধারণা থেকে এই শব্দের উৎপত্তি। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতাকে অন্যপাশে সরিয়ে অর্থের ঝনঝনানি বাজিয়ে মাঠে নামছে দুই দল।

আইসিসির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ছিল। সপ্তাহখানেক আগে এই ম্যাচ মাঠে না গড়ানোর শঙ্কা ক্রিকেট বিশ্বে কম্পন তৈরি করেছিল। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জোর দিয়ে বলেছিলেন, তার দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে এবং ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। তাতে এই টুর্নামেন্টের এই ম্যাচ নিয়ে ঘোরতর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অল্প সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচটি মাঠেই গড়াবে না। কূটনীতির খেলায় শেষ পর্যন্ত জিতে গেছে আইসিসি। লাহোরে তাদের প্রধান জয় শাহের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ের আলোচনা শেষে ‘ক্রিকেট চেতনা’ রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তাছাড়া আর্থিক ঝুঁকিকেও উপেক্ষা করা ছিল অসম্ভব।

ভারত-পাকিস্তান এখনো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আয়ের খাত। যে কোনো ফরম্যাটে দুই দলের ম্যাচ মানে বিপুল টেলিভিশন দর্শক এবং প্রচারিত বিজ্ঞাপন থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা আয়। এই ম্যাচের মূল্য আনুমানিক ২৫ কোটি ডলার। তাই তো বয়কট থেকে পাকিস্তানকে ফেরাতে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অংশীদার তৎপরতা দেখিয়েছে। সমস্যার সমাধানের পর আইসিসি, শ্রীলঙ্কা ও ব্রডকাস্টাররা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘টাকার চাকা’ যে ফের চালু হয়েছে।

অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে থেকেও দুই দলই মাঠে তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছে। উভয় দলই ‘এ’ গ্রুপে দুটি ম্যাচ খেলে ২-০ ব্যবধানে সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে এই ম্যাচটি কখনো পয়েন্ট বা নেট রান রেটে সীমাবদ্ধ ছিল না, থাকবেও না। এর অস্তিত্ব টিকে থাকে আবেগের বলয়ে। রোববার ইতিহাস ও আভিজাত্যের দিন। গ্যালারি থেকে দর্শক-সমর্থকদের গর্জন ও ড্রেসিংরুমের উত্তেজনার সম্মিলনে এক আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

মাঠের বাইরের উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা মহসিন নাকভি কলম্বোয় এসেছেন পাকিস্তানকে উৎসাহ দিতে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ কখনোই ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতি, অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। চার ঘণ্টার লড়াই শেষে এর প্রভাব আরও কত বিস্তৃত হবে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

কিউএনবি/খোরশেদ/১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit