বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

কেমন ক্রীড়াঙ্গন চাই?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। ভোটারদের চাওয়া, অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের প্রত্যাশা— সব মিলিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ। এই নির্বাচনের প্রভাব শুধু সংসদ বা সরকার গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষরা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের ওপর। 

এ প্রসঙ্গে সাবেক তারকা ফুটবলার ও সংগঠক হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে অস্থিরতা থাকলে লিগ পেছায়, টুর্নামেন্ট বাতিল হয়, বিদেশি দল আসতে চায় না। পঞ্জিকাবর্ষ থাকে কাগজে-কলমে। বাস্তবে নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ে স্পন্সরশিপ ও বিনিয়োগে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তখন ক্রীড়ায় অর্থ ঢালতে পিছিয়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্লাব পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকে।’

খেলোয়াড় ও সংগঠকরা একমত যে, নির্বাচনের সময় ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। একজন ক্রীড়া সংগঠক বলেন, ‘খেলাধুলা ঐক্যের প্রতীক। এখানে দল-মত নেই, আছে জার্সির রং আর দেশের পতাকা। রাজনীতি ঢুকলে এই জায়গাটাই নষ্ট হয়ে যায়। যদি ফেডারেশন বা ক্লাব প্রশাসনে হঠাৎ রদবদল হয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থমকে যায়।’

সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার ১০-১৫ বছরের। কিন্তু এই সময়ে তিন-চারবার নীতি বদলালে সে কোথায় যাবে? এক সরকারের পরিকল্পনা আরেক সরকার এসে বাতিল করে দিলে খেলোয়াড়ের ক্ষতি কে পূরণ করবে? আমার চাওয়া একটাই, ‘বাংলাদেশের জন্য অলিম্পিক স্বর্ণপদক। এর জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু যেন করে নতুন সরকার। নির্বাচন শেষে যে সরকারই আসুক, জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’ 

সাবেক হকি খেলোয়াড় ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।’ ক্রীড়াঙ্গনের আশঙ্কা, নির্বাচন কেন্দ্র করে সহিংসতা বা রাজনৈতিক অচলাবস্থা হলে ক্রীড়া ক্যালেন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কানাডা প্রবাসী সাবেক ফুটবলার মামুন জোয়ারদার বলেন, ‘রাজনীতির খেসারত খেলোয়াড়দের দিতে হয়। তারা আন্তর্জাতিক সুযোগ হারায়, দেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।’

সব মিলিয়ে খেলোয়াড় ও সংগঠকদের প্রত্যাশা, নির্বাচন হোক শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য, যাতে ক্রীড়াঙ্গন নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে। তাদের বিশ্বাস, খেলাধুলা ঐক্যের ভাষা, রাজনীতি বদলালেও মাঠের লড়াই, দেশের জার্সি ও জাতীয় পতাকার সম্মান যেন অক্ষুণ্ন থাকে।

 

 

কিউএনবি/খোরশেদ/১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit