আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত এখন থেকে ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়ে গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের পর এমন ঘোষণা দিলেন তিনি। এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত (বাজারে) আসছে। তারা ইরান থেকে তেল কেনার পরিবর্তে এখন ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। আমরা ইতোমধ্যে সেই চুক্তি বা চুক্তির ধারণার বিষয়ে একমত হয়েছি।’
ভারতের পণ্যে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তার অন্যতম কারণ ছিল ভেনেজুয়েলার তেল কেনা। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল কেনার কারণে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করার পর কারাকাস সরকারের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাত দীর্ঘ মেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন।
ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রির উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো-তেল রফতানি থেকে রাশিয়ার অর্জিত রাজস্ব কমানো। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সে অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহার করছে রাশিয়া । তবে, ভেনেজুয়েলার তেল কীভাবে ভারতে বাজারজাত করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি সূত্রগুলো। ভিটল বা ট্রাফিগুরার মতো আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউসগুলোর মাধ্যমে, নাকি সরাসরি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ তেল বিক্রি করবে, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে, বার্তাসংস্থা ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে ১৮টি ট্যাংকার লোড করে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুজিয়ানা এবং মিসিসিপির তেল পরিশোধনাগারে পাঠিয়েছে। যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এখন ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যাবে। যা গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণ। মাদুরোকে অপহরণের আগে ভেনেজুয়েলা থেকে চীনে প্রতিদিন চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যেত। কিন্তু গত জানুয়ারিতে এ সংখ্যা শূন্যে নেমে আসে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাদুরোকে অপহরণের পর ভেনেজুয়েলার নেতার সঙ্গে এটিই মোদির প্রথম ফোনালাপ ছিল। ওই সময় তারা দুই দেশের সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তখন রাশিয়া ভারতকে আশ্বস্ত করে, তারা ভারত থেকে আরও পণ্য কিনবে। ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই সে কথা বলেছিলেন। ভারত চায় রাশিয়ায় যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, খাদ্য ও ওষুধসামগ্রীর রপ্তানি বাড়াতে। রাশিয়া চায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে তাদের রফতানি বাড়াতে। পুতিনের সফরকালে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া ভারত থেকে জনবলও নেবে। অর্থাৎ, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়।
কিউএনবি/আয়শা/০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪