মূলত ইমরান খানকে নিয়ে এই বর্ণনাটি পাওয়া গেছে ২০১৩ সালের জুন মাসে লেখা একটি ইমেইলে। ইমেইলটি পাঠিয়েছিলেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নাসরা হাসান এবং প্রাপক ছিলেন নরওয়ের কূটনীতিক ও সে সময়ের ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট তেরিয়ে রড-লারসেন। ইমেইলে ইমরান খানকে ‘লন্ডন সোসাইটি লায়ন’ বা ‘লন্ডনের অভিজাত সমাজের প্রভাবশালী মুখ’ হিসেবে উল্লেখ করেন নাসরা হাসান।
মূলত কীভাবে পশ্চিমা-সমর্থিত স্বাস্থ্য উদ্যোগগুলো বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচি পাকিস্তানে প্রভাব বাড়াতে পারে সেটাই সেখানে আলোচনা করা হয়েছিল। এই ইমেইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত শুক্রবার প্রকাশ করে। জেফ্রি এপস্টেইনের আর্থিক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক তদন্তের অংশ হিসেবে এসব নথি প্রকাশ করা হয়। ২০১৩ সালে ইমরান খান ছিলেন বিরোধী দলের রাজনীতিক এবং বিশ্বকাপজয়ী সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। অবশ্য কোনও সরকারি পদে থাকার কারণে নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলোতে সেসময় তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগ ও পরিচিতির জন্য বেশি পরিচিত ছিলেন।
নাসরা হাসানের মতে, এসব সামাজিক যোগাযোগের কারণে সংবেদনশীল কূটনৈতিক ইস্যুতে, বিশেষ করে পোলিও নির্মূল সংক্রান্ত বিষয়ে তৎকালীন নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের চেয়ে ইমরান খানকে বেশি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হয়েছিল। ইমেইলে নাসরা হাসান লেখেন, সম্ভবত পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে তা নতুন প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ) নয়, ইমরান খানের মাধ্যমে।
সে সময় ইমরান খানের দল পিটিআই খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ক্ষমতা নিয়েছিল। ওই প্রদেশে তখনও পোলিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল এবং টিকাদান কর্মসূচি নানা বাধার মুখে পড়ছিল। ইমেইলটি লেখা হয়েছিল বিল গেটসকে ঘিরে হওয়া আলোচনার পরপরই। ওই চিঠিপত্রে তাকে ‘বিজি’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনায় আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও যুক্ত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া এক আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এপস্টেইন-সংক্রান্ত চূড়ান্ত নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।