আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এক ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তি বিশ্বের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় ভারত ও ইইউ উভয়ই বিকল্প কৌশল হিসেবে এই চুক্তির দিকে এগিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানুষ “একে সব চুক্তির মা” বলে ডাকছে। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের লাখ লাখ মানুষের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ মোদি জানান, এই চুক্তি বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব করে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ভারত–ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়ন যৌথভাবে চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, মার্চ পর্যন্ত সময়ে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কয়েক দিন আগে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আগে গত বছর ইইউ ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি করেছিল।
একই সময়ে নয়াদিল্লি ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এই ধারাবাহিক চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে দেশগুলোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের জোটগুলো চাপে পড়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এ ছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি গত বছর দুই সরকারের মধ্যে যোগাযোগে ভাঙনের কারণে ভেস্তে যায়। ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইনি যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরই ভারত–ইইউ চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে। এই আইনি প্রক্রিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এক বছরের মধ্যেই এই চুক্তি কার্যকর হবে।’
কিউএনবি/খোরশেদ/২৭ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৫:৩০