রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: ক্যাডার ১৩২০, নন-ক্যাডার ২০১ জন দ্বিতীয় দফায় ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা জবাব আইআরজিসির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটের নতুন ডিসি রেজা হাসান, কুমিল্লায় রোজী আকতার জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড বন্ধ, মাটিরাঙ্গায় স্থানীয়দের  বিক্ষোভ মিছিল। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে মেসি ভেনেজুয়েলায় প্রায় সাত লাখ শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন: ইউনিসেফ বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন: বিডা চেয়ারম্যান সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড মহাকাশ গবেষণায় আধুনিক ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির চিঠিতে যা বলা হয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে অস্থিরতা চলছে। বাংলাদেশি পেসার যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে পুরো দল কীভাবে নিরাপত্তা পাবে, সেই শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিসিবি। এজন্য ভারত থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে দেশের ক্রিকেট সংস্থা।

সবশেষ আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশের ভারত বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার ইস্যুতে ‘তিনটি আশঙ্কা’র কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠি এসেছে ‘বিবিসি বাংলা’র হাতে। তারা এনিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চিঠিতে আইসিসি কী বলেছে জানিয়েছে তারা। যা রয়েছে আইসিসির মেইলে মেইলের শুরুতে ৩ জানুয়ারি মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাওয়ার দাবি এবং মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর চারটি বিষয়ে আলাদা করে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের ঝুঁকির মূল্যায়ন করা হয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে এই ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ আইসিসির সার্বজনীন একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড ক্যাটাগোরাইজেশন’ বা আদর্শ শ্রেণিবিন্যাস, যেখানে সাধারণত খেলার ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট কারণ উল্লিখিত থাকে না। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঝুঁকি পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে ডিসেম্বরে এবং পুরো আসর ঘিরে ঝুঁকির মাত্রা ‘মডারেট’ বা মাঝারি মাত্রার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকির মাত্রা ‘মডারেট টু হাই’বা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার বলে জানানো হয়েছে মেইলে। অর্থাৎ, অন্যান্য দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার বলে উঠে আসে ওই মূল্যায়নে। সেই প্রাথমিক মূল্যায়নের পর বাংলাদেশ দলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে আরেক দফায় ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ দলের জন্যও মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এর সঙ্গে যোগ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে মুস্তাফিজের উপস্থিতি সমস্যার কারণ হতে পারে যদি ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিষয়টি জড়িত হয়।’বেঙ্গালুরুতে ওয়ার্ম আপ ম্যাচের পাশাপাশি কোলকাতায় তিনটি ও মুম্বাইয়ে একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। ম্যাচের সময় ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এসব ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি ‘মিডিয়াম-লো’ বা মাঝারি থেকে কম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা সি ভি মুরালিধরের একটি মূল্যায়নের উল্লেখও করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ঝুঁকির মূল্যায়ন পরিবর্তন হয়নি এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে এমন কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে না যা আসরের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরসন করা যাবে না। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ইতিহাস ও নিশ্চয়তার ভিত্তিতে মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশ দল বা অন্য কোনো অংশগ্রহণকারী দল কোলকাতা বা মুম্বাইয়ে বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হবে বা হঠাৎ তাদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এই দুই ভেন্যুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার বলে উল্লেখ করা হয়েছে মেইলে। তবে এই দুই জায়গায় বাংলাদেশি সমর্থকদের – বিশেষ করে যারা দলের জার্সি পরে বা আলাদা ছোট দলে স্টেডিয়ামে যাবেন – ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ের বলে উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। পাশাপাশি, বিশ্বকাপ আসর ঘিরে যদি কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটে তাহলে তা আশেপাশের বড় এলাকা জুড়ে সহিংসতা ও বিক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হয় যে মসজিদ পোড়ানো, বড় ধরনের দাঙ্গা বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যার মত ঘটনা দুই দেশের কোনো একটি দেশে ঘটলে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং তা দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি করবে। এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকলেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে উঠে এসেছে মেইলে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রেশ– বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো অঞ্চলে ‘শর্ট টু মিডিয়াম টার্মে’ বা স্বল্প থেকে মাঝারি সময়কাল পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে বলে বলা হয়েছে আইসিসির ঝুঁকি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে। তবে এই মুহূর্তে এই উত্তেজনা খেলার ভেন্যু বা খেলোয়াড়দের প্রতি সহিংসতায় পরিণত হবে না বলে উঠে এসেছে মেইলে।

বাংলাদেশ দলের ও খেলোয়াড়দের প্রতি ঝুঁকি এই ক্ষেত্রে মাঝারি বলেই উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে। তবে এই ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ের ‘ফুল রিভিউ’ বা সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করার বিষয়টিও উঠে এসেছে অ্যাসেসমেন্টে। মেইলের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখন দুই বোর্ডের দুজন স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকের কাছে পর্যালোচনার জন্য রয়েছে। শেষ লাইনে বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে এই বিষয়ে তার মূল্যায়ন ও মন্তব্যকে স্বাগত জানানো হবে যেন বিসিবির দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ঝুঁকি বা উদ্বেগ থাকলে তা সমন্বিতভাবে নিরসন করা যায়।

 

 

 

কিউএনবি/মহন/১৩ জানুয়ারি ২০২৬,/সকাল ১১:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit