শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

ব্রাজিল মাদুরোর পক্ষে, আর্জেন্টিনা ট্রাম্পের পক্ষে কেন?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে সাফল্যের দাবি করলেও এ নিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। এই ঘটনা একদিকে যেমন অনেক দেশের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে উঠেছে নিন্দার ঝড়।

বিংশ শতাব্দীতে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বৈরশাসক বসানোর যে তিক্ত ইতিহাস রয়েছে, এই অভিযানের ফলে সেই ভীতি নতুন করে জাগ্রত হয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং সামাজিক অস্থিরতার জন্য দায়ী মাদুরোকে নিয়ে অনেক নেতার মধ্যেই কোনো সহানুভূতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান নাগরিকের দেশত্যাগ এবং অপরাধী চক্রের বিস্তার প্রতিবেশি দেশগুলোর রাজনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেলেছে। 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভেন লেভিটস্কি মনে করেন, এই ঘটনায় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মূলত তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শ অনুযায়ী হচ্ছে। ডানপন্থীরা একে স্বাগত জানালেও বামপন্থী সরকারগুলোর জন্য এর বিরোধিতা করা ছাড়া উপায় নেই।

এই সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলা এবং লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অবিলম্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

 ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা এই সুরেই কথা বলেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে বোমা হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবামও এই হস্তক্ষেপের নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে চিলির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্ত এই ঘটনাকে পুরো অঞ্চলের জন্য দারুণ সংবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো মাদুরোর পুরো শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তাদের বিচার নিশ্চিত করা। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া এই অভিযানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। নোবোয়া হুংকার দিয়ে বলেছেন, এই অঞ্চলের মাদক সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোগুলো অবশেষে ধসে পড়বে।

 বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ তৈরি করেছে, যা শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলে আমেরিকার ‘পুলিশি ভূমিকা’ বা আধিপত্য বিস্তারের পুরনো স্মৃতিকেই ফিরিয়ে এনেছে।

সূত্র: রয়টার্স 

কিউএনবি/অনিমা/০৫ জানুয়ারী ২০২৬,/সকাল ৭:০২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit