আন্তর্জাতিক ডেক্স : কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা আইনি মর্যাদা হারানোর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। মূলত কাজের অনুমতির (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং নতুন ভিসা প্রাপ্তি বা স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অস্থায়ী কর্মী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মকানুন কঠিন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনের প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের সামনে বৈধভাবে থাকার বিকল্প পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কানওয়ার সিরাহ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি করবে।
ইতোমধ্যেই এই পরিস্থিতির সামাজিক প্রভাব পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। বৃহত্তর টরন্টো এলাকা, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন এবং ক্যালেডনের বনাঞ্চলে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বসবাস করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, আইনি মর্যাদা হারানো অনেক ভারতীয় নাগরিক এখন নামমাত্র মজুরিতে নগদ টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই মানবিক ও আইনি সংকটের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-এর মতো কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, যারা কানাডার অর্থনীতিতে শ্রম দিচ্ছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। ‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’ — এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
কিউএনবি / মহন / ০৩ জানুয়ারি ২০২৬,/ সকাল ১০:৫৪