রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী কিছু বিশেষ ঘটনা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬২ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, কারাবরণ ও প্রবাস জীবন সত্ত্বেও তিনি নিজেকে আধুনিক, সংস্কারমুখী ও তৃণমূলভিত্তিক এক গণনেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক জীবনের তিনটি সময়কাল এই রূপান্তরে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তারেক রহমান জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক নতুন ধারা সূচনা করেন। এসি কক্ষকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কৃষকের সমস্যা শোনা এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার এই উদ্যোগ বিএনপিকে একটি ব্যক্তি-কেন্দ্রিক দল থেকে তৃণমূল-বান্ধব রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করতে সহায়ক হয়। এই সময়েই তারেক রহমানের রাজনীতির ভিত্তি শক্তভাবে গড়ে ওঠে।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার হওয়ার পর রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তারেক রহমান শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়। ওই নির্যাতনের ফলে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ কারাবাস ও শারীরিক যন্ত্রণা তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসাবে বিবেচিত হয়। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও সংযত, ধৈর্যশীল ও আদর্শনিষ্ঠ করে তোলে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সে সময় থেকেই তিনি ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে শুরু করেন। 

২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করেই দল পরিচালনা শুরু করেন। স্কাইপ ও জুমসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। দলীয় সূত্রে জানানো হয়, স্বৈরাচারী শাসনের চাপের মধ্যেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে এই ‘ভার্চুয়াল নেতৃত্ব’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

তিনি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে ‘৩১ দফা’ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। এতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধানসহ একাধিক সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। তারেক রহমান বারবার বলে আসছেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দলের নয়; এটি সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের দেশ। তিনি উগ্রবাদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

তার রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন এবং তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের অংশীদার করা। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তারেক রহমানকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু ও দীর্ঘ প্রবাস জীবন সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জীবনের বড় শিক্ষা হলো—বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য ধারণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা।

সব মিলিয়ে, সংগ্রাম ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা আজ এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

কিউএনবি/আয়শা/২৫ ডিসেম্বর ২০২৫,/রাত ১০:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit