বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে লাফিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, সামনে আরও বড় বিপর্যয়? সিলেটের সড়ক থেকে ৮ মাসে ৫ কোটি টাকা আদায় পুলিশের রাজধানীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একাধিক মামলার দুই আসামি গ্রেফতার হৃদরোগের সঙ্গে লড়াই, ২২ বছরেই থামল মিস অস্ট্রিয়ার জীবন দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর, ঢাকার বাতাসও অস্বাস্থ্যকর ইরানের দক্ষিণ উপকূলে রাতভর বিস্ফোরণ, উত্তেজনা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই থামবে ইরান যুদ্ধ, দাবি ট্রাম্পের পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ইরানের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, দাবি নেতানিয়াহুর

মা-বাবা ও স্ত্রীর পাশেই শেষ ঠিকানা হচ্ছে তোফায়েল আহমেদের

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

ডেস্কনিউজঃ বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে ভোলায় পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবা ও স্ত্রীর পাশেই দাফন করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) বাদ জোহর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জনাজা ও গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে হবে তৃতীয় জানাজা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাগ্নে শাহজল হক।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুর সংবাদে ছুটে এসেছে স্বজন ও গ্রামের লোকজন। আসছেন ছোটবেলার খেলার সাথীরাও। তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।

তোফায়েল আহমেদের অনন্ত বিদায়ের খবরে অন্য দলের নেতারাও শোকাহত। ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত হয়েছি। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। আমি একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছি এবং তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নেতা। তার মৃত্যুতে ভোলাবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।’

প্রতিবেশী সৈয়দ আহম্মদ জানান, কোড়ালিয়া তথা ভোলার নামের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সারা দেশে এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ভোলাকে চিনিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে এলাকার সবাই শোকাহত।’

তোফায়েল আহমেদের নাতি মো. শাকিল বলেন, ‘আমাদের মাথার ওপরে যে বটবৃক্ষটি ছিল, তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজনপদ ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী ব্যবসায়ী আজহার আলী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম। ১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।

রাজনীতির বরপুত্র খ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।

কলেজ জীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্রসংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্রসংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্রসংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানে ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন।১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পরপর তিনবার সংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে ভোলার তিনটি আসনে প্রার্থী হলেও প্রতিটিতে পরাজিত হন তোফায়েল আহমেদ। এরপর ২০০৮ সালে ভোলা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ভোলা-১ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ভোলা-১ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। ২০২১ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েলে তার রাজনীতির গতি স্তিমিত হয়ে আসে। এর পরেও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ২০২৪ সালে এমপি নির্বাচিত হন। জীবদ্দশায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে তিনি ৯টিতে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

বিপুল/০১.০৬.২০২৬/রাত ৯.৩৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit