আর্জেন্টিনার কাছে ৭ গোল খাওয়া দেশটাও বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
৪৪
Time View
স্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত নেদারল্যান্ডসের একটি স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ কুরাসাও। ‘এবিসি’ দ্বীপপুঞ্জের (আরুবা, বেনেয়ার এবং কুরাসাও) বৃহত্তম দ্বীপ এটি। কুরাসাও তার চমৎকার সৈকত আর প্রাণবন্ত সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। ফুটবল জগতে নিতান্তই অখ্যাত এই ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ।
২০২৩ এর মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৭ গোল খেয়ে হাস্যরসের জন্ম দেয়া কুরাসাওকে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে। তার জন্য দরকার হার এড়ানো। তাহলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার দেশটিকে। সে ক্ষেত্রে জনসংখ্যার বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার কীর্তি গড়বে কুরাসাও।
দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশ সুরিনামও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এক সময়ের ডাচ উপনিবেশটি বিখ্যাত অনেক ফুটবলারেরই জন্ম দিয়েছে। এডগার ডাভিডস, জিমি ফ্লয়েড হ্যাসেলবাঙ্ক, ক্লারেন্স সিডর্ফের মতো নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ফুটবলারদের জন্ম আসলে এই দেশেই।
এছাড়া প্যাট্রিক ক্লুইভার্টেরও পূর্বপুরুষের ভূমি সুরিনাম। তবে, দেশটির ফুটবল তাতে খুব একটা লাভবান হয়নি। সুরিনামের রত্নভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে নেদারল্যান্ডসের ফুটবল। অবশেষে সুরিনামকে দেখা যেতে পারে বিশ্বমঞ্চে। সে জন্য তাদেরও দরকার আর মাত্র একটি জয়।
মেসির পা থেকে বল কেড়ে নেয়ার চেষ্টায় কুরাসাওয়ের দুই খেলোয়াড়। ম্যাচটায় শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ছবি: রয়টার্স
কুরাসাও আর সুরিনাম দুটি দেশই কনকাকাফ অঞ্চলের। আগামী বছর এই অঞ্চলের তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজ়ন করছে বিশ্বকাপ। ফলে বাছাই পর্বে না খেলেই সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পাচ্ছে তারা। এই অঞ্চলের আরও তিনটি দেশ বাছাই পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেবে, আর এই তিন দেশের দুটি হতে পারে কুরাসাও আর সুরিনাম। বাছাই পর্বে নিজ নিজ গ্রুপের শীর্ষে আছে তারা।
কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাই পর্বের চূড়ান্ত রাউন্ডে গ্রুপ ‘বি’র শীর্ষে অবস্থান করছে কুরাসাও। ৫ ম্যাচে ৩ জয় ও ২ ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। বিশ্বকাপে জায়গা পেতে তাদের সমীকরণ একদম সোজা। আগামীকাল (১৯ নভেম্বর) সকালে জ্যামাইকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে শুধু হার এড়াতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেমে ক্ষুদ্র দ্বীপদেশটি।
সুরিনামের জন্য কাজটা অবশ্য একটু জটিল। গ্রুপ ‘এ’তে ৫ ম্যাচে ২ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে পানামা। বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইটাও এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বিশ্বকাপের টিকিট পেতে গুয়াতেমালার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা খেলবে সুরিনাম। বিশ্বকাপ খেলতে তাদের সামনে সমীকরণতা নিম্নরূপ–
প্রথমত, গুয়াতেমালার বিপক্ষে যদি সুরিনাম জয় পায় বা ড্র করে, আর পানামা এল সালভেদরের বিপক্ষে হেরে যায়–তাহলে বিশ্বকাপে যাবে সুরিনাম।
সুরিনাম জাতীয় দল। ছবি: এক্স
কিন্তু সুরিনাম যদি গুয়াতেমালাকে হারায় এবং পানামাও এল সালভেদরকে হারায়–তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে হবে সুরিনামকে।
যদি তারা গুয়াতেমালার বিপক্ষে হারে এবং পানামাও নিজ ম্যাচে হেরে যায়–সেক্ষেত্রেও গোল ব্যবধানে সুরিনামকে এগিয়ে থাকতে হবে। এখন দেখার বিষয়, এই সমীকরণ মিলিয়ে সুরিনাম প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারে কি–না।