আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : কাতারে পাঠানোর পর দেশে ফিরে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সৈকত নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যাক্তি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সৈকত হোসেনকে কাতারে পাঠানোর জন্য তিনি পরিচিতজনের মাধ্যমে ব্যবস্থা করেন।
এ জন্য ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় মোট ৫ লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত তার কাছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে এবছরের গত ২৮ এপ্রিল তাকে কাতারে পাঠানো হয় এবং সেখানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ক্লিন ওয়ার্কার হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় ২০ থেকে ২১ দিন কাজ করার পর অভিযুক্ত কোম্পানি ও রুমমেট কাউকে কিছু না বলে আমার ছেলে নাজমুল হকের একটি আইফোন, রুমমেটদের বিভিন্ন মালামাল এবং স্থানীয় একটি দোকানের বাকির পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এবং মোশাররফকে নানা ভয় ভীতি সহ হুমকি দেওয়া হয়।
এবিষয়ে মোশাররফ বলেন, সৈকতকে যে ভিসার কথা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো, তাকে সেই ভিসাই দেওয়া হয়। পরে সে ১ মাস যেতে না যেতেই কাউকে কিছু না বলে মোবাইল ও টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে আসে। এরপরে আমার ছেলে কোন উপায় না পেয়ে কাতারে অভিযোগ করে। সে দেশে ফেরার পর আমার কাছে টাকা দাবী করে ও ভয়ভীতি দেখানো সহ মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়। এছাড়া রানার মাধ্যমে সৈকতের সাথে আমার পরিচয় হয়। তবে রানা এই ঘটনার সাথে জড়িত নেই। আমাকে এবং তাকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
অভিযুক্ত সৈকতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপরে তার বাবা মোজাম্মেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রানার মাধ্যমে মোশাররফের সাথে পরিচয় হয়। সে নাকি বিদেশে লোকজন পাঠায়। পরে মোশাররফ আমার ছেলেকে কাতারে পাঠায়। যে ভিসা দেওয়ার কথা ছিলো সেখানে কাজ না দিয়ে জঙ্গলে কাজ দেয়। আমার ছেলে কয়েকদিন জঙ্গলে কাজ করতে করতে হাত পায় ফোসকা পড়ে যায়। আমার ছেলে এই কাজ করবে না বলে নাজমুলকে জানায়। তারা সেখানে পুলিশের ভয়ভীতি দেখালে আমার ছেলে দেশে চলে আসে। আমি এবিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।
কাতার প্রবাসী মোশাররফের ছেলে নাজমুল জানান, আমার বাবার মাধ্যমে সৈকত কাতারে আসে। তাকে এখানে কাজ দিয়ে পার্মিট কার্ড করে দেওয়া হয়। পরে সে ২০ দিন কাজ করে। এরপরে কাউকে কিছু না বলে টাকা পয়সা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে দেশে চলে যায়। এদিকে আমার কথা বলে এক মুদির দোকানির কাছ থেকে বিভিন্ন সামগ্রী বাকি নেয়। সে যে পালিয়ে গেছে এতে করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে আমি মনে করছি।
এরপরে কাতারে অবস্থিত মুদী দোকানের ইন্ডিয়ান এক কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সৈকত নাজমুলের কথা বলে ১২০০ রিয়েল দোকান বাকি করে কাউকে কিছু না বলে বাংলাদেশে চলে যায়। আমি নাজমুলকে চিনি, তার কাছ থেকে এই টাকা আদায় করে নিবো। এবিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল বলেন, এ ঘটনায় দুপক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। এবং দু’পক্ষকে থানায় ডাকবো, তাদের কাছ থেকে ঘটনা শুনে সমাধান করে দেওয়া যায় কিনা দেখি।
কিউএনবি/আয়শা/০১ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:০৫