বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

ঢাকার হারানো ৪৪ জলাধার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৭ Time View

নিউজ ডেক্স : ঢাকায় দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন আর অব্যাহত দখল-দূষণে  হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো জলাধার। এ পরিস্থিতিতে হারিয়ে যাওয়া জলাধারগুলো পুনরুদ্ধারে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার কেরানীগঞ্জের দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঢাকার ৪৪টি খাস পুকুর ও জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এটি এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম বড় পুকুর সংরক্ষণ প্রকল্প।

সংস্কার পরিকল্পনায় রয়েছে– সীমানা নির্ধারণ, দখল উচ্ছেদ, পুনর্খনন, পাড় শক্তকরণ, ঘাট নির্মাণ, ওয়াকওয়ে-বেঞ্চ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ এবং নান্দনিক পরিবেশ তৈরির কাজ। ফলে বর্ষায় পানি সংরক্ষণ বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং নগরবাসী পাবেন পরিবেশবান্ধব উন্মুক্ত বিনোদনস্থল।
পলিথিন দূষণের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার নদী, খাল, পুকুর প্রায় সবই পলিথিনে ভরা। এটা শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না– সেগুলোর জলধারণ ক্ষমতাও নষ্ট করছে। এ বিপদ ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ বলেন, খতিয়ানভুক্ত ১১৩টি খাস পুকুরের মধ্যে মাত্র ১৫টি ইজারার আওতায় আছে। বাকি ৯৮টি পুকুরের বেশির ভাগই ব্যবহার অযোগ্য, ময়লা, কচুরিপানায় ভর্তি। এসব জলাধারেরই সংস্কার করা হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে উদ্বোধনের মাধ্যমে নবাবগঞ্জের ছয়টি, দোহারের চারটি, কেরানীগঞ্জের ছয়টি, সাভারের চারটি, আশুলিয়ার ১০টি, আমিনবাজারের দুটি, তেজগাঁওয়ের একটি এবং ধামরাইয়ের ১১টি পুকুরে খননকাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, এসব পুকুরে প্রায় দুই লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৬টি ঘাট নির্মাণ, ৯০টি বসার বেঞ্চ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ এবং ২৫টি পুকুরের পাড়ে সোলার প্যানেল বসানো হবে। তানভীর আহমেদ বলেন, পুকুর শুধু পানি জমার জায়গা নয়–এগুলো জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, শহরের তাপ কমানোর আবরণ। এগুলো ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয়দের সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পুকুর সংস্কার শেষ হলেই কাজ শেষ নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দখল প্রতিরোধ এবং সচেতন ব্যবস্থাপনা ছাড়া এগুলো টিকবে না।প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম ধাপ সফল হলে বাকি ৬৯টি খাস পুকুরও পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া।

 

 

কুইক নিউজ / মোহন / ১৬ নভেম্বর ২০২৫/ দুপুর ২:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit