শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৩ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : বোলারদের দারুণ নৈপুন্যে প্রথমবারের মত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৮ রানে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। সিরিজে প্রথম ম্যাচ ৭ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা। ফলে এক ম্যাচ বাকী থাকতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল লিটন দাসের দল।

এই প্রথম একের বেশি ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে এক ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল টাইগাররা।

জাকের আলির লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪৮ বলে ৫৫ রান করেন জাকের। ১৩৪ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়ে ১৫ রানে পাকিস্তানের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ তৈরি করেছিলেন বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পেসার ফাহিম আশরাফের বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসানের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। ৭ বলে ৩ রান করেন তিনি।

দলীয় ৫ রানে নাইম ফেরার পর বাংলাদেশের রানের চাকা সচল করে ৪ ওভারে দলের রান ২৫’এ নেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক লিটন দাস। পঞ্চম ওভারের শুরুতে সালমান মির্জার বলে ডিপ মিড উইকেটে হাসান নাওয়াজকে ক্যাচ দেন লিটন। ১টি বাউন্ডারিতে ৯ বলে ৮ রান করেন তিনি।

একই ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন লিটনের বিদায়ে ক্রিজে আসা তাওহিদ হৃদয়। মিড অফে বল পাঠিয়ে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ৩ বল খেলে রানের খাতা খুলতে না পারা হৃদয়।

পাওয়ার প্লের এক বল বাকী থাকতে বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে দেন আগের ম্যাচে ৩৯ বলে ৫৬ রান করে সেরা খেলোয়াড় হওয়া পারভেজ। অভিষিক্ত পেসার আহমেদ দানিয়ালের বলে ফাহিমের ক্যাচে পরিণত হন ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ বলে ১৩ রান করা পারভেজ।

২৮ রানে চতুর্থ উইকেট পতনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান পাঁচ নম্বরে নামা জাকের ও মাহেদি হাসান। দশম ওভারে মাহেদির ব্যাটে ১টি করে চার-ছক্কায় ১২ রান আসায় হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছায় বাংলাদেশের স্কোর।

১৪তম ওভারের পঞ্চম বলে স্পিনার মোহাম্মদ নাওয়াজের বলে স্লগ সুইপে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে জাকেরের সাথে জুটিতে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন মাহেদি। পরের ডেলিভারিতে বিদায় ঘন্টা বাজে মাহেদির। ক্রিজ ছেড়ে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে হাসানকে ক্যাচ দেন তিনি। ২টি করে চার-ছক্কায় ২৫ বলে ৩৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন মাহেদি।

পঞ্চম উইকেটে জাকেরের সাথে ৪৯ বলে ৫৩ রান যোগ করেন মাহেদি। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।

দলীয় ৮১ রানে মাহেদি ফেরার পর বাংলাদেশের রানের চাকা একাই ঘুড়িয়েছেন জাকের। পেসার আব্বাস আফ্রিদির করা ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন ৪৬ বল খেলা জাকের।

শেষ পর্যন্ত জাকেরের লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০ ওভার খেলে সব উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করে বাংলাদেশ। ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৮ বলে ৫৫ রান করেন জাকের।

সালমান-দানিয়েল ও আব্বাস ২টি করে উইকেট নেন।

১৩৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলে উইকেট হারায় পাকিস্তান। ১ রান করে রান আউট হন সাইম আইয়ুব। পরের ওভারে মোহাম্মদ হারিসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। গোল্ডেন ডাকে মারেন হারিস। দ্বিতীয় ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

তৃতীয় ওভার বিপদ কাটলেও পরের দুই ওভারে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। চতুর্থ ওভারে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান শরিফুল। ৮ রান করা ফখর জামানকে থামান তিনি।

পঞ্চম ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমণে এসেই জোড়া উইকেট শিকার করেন তানজিম হাসান সাকিব।
ওভারের তৃতীয় বলে হাসান নাওয়াজ ও পরের ডেলিভারিতে মোহাম্মদ নাওয়াজকে বিদায় দেন তানজিম।

উইকেটরক্ষক লিটনকে ক্যাচ দিয়ে শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন দুই নাওয়াজ। এতে ৪.৪ ওভারে ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে লজ্জার রেকর্ডের মালিক হয় পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট হারাল তারা। এর আগে গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। এছাড়া সবচেয়ে কম রানে প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ডও গড়ল বাংলাদেশ।

ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বেঁধে পাকিস্তানের উইকেট পতন ঠেকান অধিনায়ক সালমান আঘা ও খুশদিল শাহ। ২৮ বলে ১৫ রানের জুটি গড়ে মাহেদির শিকার হন সালমান ও খুশদিল। সালমান ২৩ বলে ৯ এবং খুশদিল ১৩ রানে আউট হন।

৪৭ রানে পাকিস্তানের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু অষ্টম উইকেটে ২৭ বলে ৪১ রানের জুটিতে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরান ফাহিম আশরাফ ও আব্বাস। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩ বলে ১৯ রান করা আব্বাসকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন শরিফুল।

৮৮ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পর ক্রিজে ফাহিমের সঙ্গী হন দানিয়েল। ১১ বলে ১৮ রানের জুটি গড়ে শেষ ওভারে ২ ওভারে জয়ের সমীকরণ ২৮ রানে নামিয়ে আনেন ফাহিম ও দানিয়েল। স্পিনার রিশাদ হোসেনের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ৫ বল থেকে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ রান তুলেন ফাহিম ও দানিয়েল। ওভারের শেষ বলে ফাহিমকে বোল্ড করেন রিশাদ।

শেষ ওভারে ১৩ রানের প্রয়োজনে মুস্তাফিজের প্রথম বলে চার মারেন দানিয়েল। পরের ডেলিভারিতে মিড উইকেটে শামিমের ক্যাচে দানিয়েল আউট হলে, ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

৪টি করে চার-ছক্কায় ফাহিম ৩২ বলে ৫১ ও দানিয়েল ১১ বলে ১৭ রান করেন।

শরিফুল ১৭ রানে ৩টি, মাহেদি-তানজিম ২টি করে এবং মুস্তাফিজ ও রিশাদ ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন জাকের।

আগামী ২৪ জুলাই মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে দু’দল।

কিউএনবি/অনিমা/২৩ জুলাই ২০২৫,/সকাল ১০:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit