শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

ঈদযাত্রায় গাজীপুরে দুই মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটের শঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫
  • ৬৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঈদযাত্রা শুরু হবে আর মহাসড়কে দুর্ভোগ হবে না এমনটা যেন কল্পনার বাহিরে। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষকে এ ভোগান্তি মেনে নিয়েই বাড়িতে ফিরতে হয়। দেশের সড়ক পথগুলোর মধ্যে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ সবচেয়ে ব্যস্ততম পথ। এই পথে যাত্রীর চাপ বরাবরই বেশি থাকে। ঈদযাত্রায় ভোগান্তিও বেশি হয় এ মহাসড়কে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল এই দুই মহাসড়কের গাজীপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে এবারও ঈদযাত্রায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে ঘরমুখো মানুষদের। জেলা ও মহানগর ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকলে সেটি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে জেলা ও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। এখন থেকেই তারা মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

যাত্রী, পরিবহণ শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়। এই সড়কটি দিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। যানজটের কারণে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলায় যেতে কখনো কখনো অতিরিক্ত ১০-১২ ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। এতে ঈদযাত্রা কিছুটা মলিন হয়ে যায়। এবারও এমন ভোগান্তির আশঙ্কা আছে।

কয়েক বছর আগে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার যানজটের কথা চিন্তা করে একটি উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হয়। ওই উড়াল সড়ক চালু হওয়ার পর যানজট অনেকটাই কমে যায়। উড়াল সড়ক নির্মাণ করায় নিচের একটি লেন সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় নবীনগর থেকে চন্দ্রা হয়ে যেসব যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে যাতায়াত করে সেসব যানবাহনগুলোতে মহাসড়কের ওই সংকুচিত স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে বাইপাইল ও চন্দ্রা মোড়ে সবচেয়ে বেশি যানজটের কবলে পড়ে সড়কপথের গাড়িগুলো। বাইপাইল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক পার হতে গাড়িগুলোর কখনো কখনো দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। পাশাপাশি গোড়াই মিলগেট এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

এ মহাসড়কে নিয়মিত চলাচল করা দূরপাল্লার পরিবহণের চালক, যাত্রী ও স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তার দুই পাশ দখল করে অবৈধ দোকানপাট, কাঁচাবাজার, অবৈধ পার্কিং ও ইজিবাইকের আধিক্যের কারণে সারা বছর যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। ঈদ এলে ঘরমুখো মানুষের এ ভোগান্তি ব্যাপক আকার ধারণ করে। এবারও সে আশঙ্কাই করছেন তারা।

এবার ঈদে নিরাপত্তা ও যাত্রা নির্বিঘ্ন করা এই দুই রকমের চ্যালেঞ্জ থাকার কথা জানিয়ে গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার আ ক ম আখতারুজ্জামান বসুনিয়া বলেন, গাজীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি মহাসড়কে এবার ঈদে ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। তারা জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে বাইপাইল মোড় এলাকায় সংকুচিত সড়কে দীর্ঘ যানজট হতে পারে। কারণ এখানে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। রাস্তার মাঝখানে পিলার নির্মাণ হচ্ছে। এই চন্দ্রা পার হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়েও ঠেকতে পারে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাড়িগুলো সাধারণত উত্তরা, গাজীপুর দিয়ে বের হয়।

ফলে এই সড়কে বিমানবন্দর বিআরটি করিডর, উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় গাড়ির জট তৈরি হতে পারে। এছাড়া ভবানীপুর বাজার, হোতাপাড়া, বাঘের বাজার, মাস্টারবাড়ী বাজার, সিড-স্টোর বাজার, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এসব জায়গায় সড়কে বিকেলের পরে বাজার বসার কারণে যানজট হয়। এই মহাসড়কে ৬টি স্পটে যানজটের আশঙ্কা আছে।

পুলিশের প্রস্তুতি: ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্য করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ঈদে মহাসড়ককে ৪টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। মহাসড়কে সাড়ে ৭শ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতির পরও যানজটের আশঙ্কা করছেন এই সড়কে চলাচলকারী পরিবহণ চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। পরিবহণ চালকরা বলছেন, ঈদ এলেই শুরু হয় তড়িঘড়ি কাজ। এতে গাড়ির গতি ঠিক থাকে না এবং দেবে যাওয়া রাস্তায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশ টঙ্গী থেকে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। পরিবহণ মালিক ও শিল্প কারখানা সূত্র জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পর্যায়ক্রমে শিল্প কারখানা ছুটি হবে। সেদিন থেকেই দুই মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এরপর কিছু কারখানা শুক্রবার এবং বাদবাকি কারখানা ছুটি হবে শনিবার।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, আমরা রমজানের শুরুতেই ঈদের যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছি। এর মধ্যে মহাসড়কের সার্ভিস লেনগুলি দখল হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে সেখানে থাকা বাসস্ট্যান্ডগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঈদে সড়ক মহাসড়কে সাড়ে ৭শ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। বিকল হওয়া পরিবহণগুলি সরিয়ে নিতে থাকবে রেকার ব্যবস্থা। মহাসড়ক যানবাহনে ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধের জন্য অতিরিক্ত চেক পোস্ট থাকবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নিয়ে বুধবার আমরা একটি সভা করেছি। সেখানে বিআরটি, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠন উপস্থিত ছিল। সেখানে আলোচনা হয়েছে- মহানগরীর টঙ্গীর চেরাগ আলী, কলেজ গেট, ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যানজট নিরসনে সাড়ে ৩০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে মহাসড়কে। ঈদযাত্রা শুরু হলে বিআরটি লেনটি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দিকে একমুখী যানবাহন চলাচল করবে। এতে করে সহজেই ঢাকা থেকে যানবাহনগুলো বের হয়ে যেতে পারবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ মার্চ ২০২৫,/রাত ৮:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit