বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কয়েক হাজার কুর্দি যোদ্ধার ইরানে প্রবেশের দাবি, যা বললো তেহরান তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল ন্যাটো বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুমকি ইরানের ডুবে যাওয়া ইরানি জাহাজ থেকে ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ, যা বললো ভারত ইরানে ৫ হাজারের বেশি গোলা নিক্ষেপের দাবি ইসরায়েলের ইরানের ২০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট নাকি ইসরায়েল’ প্রশ্ন ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের আক্রমণ ছাড়া কোনো পথ ছিল না, উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বার্তা তুরস্কের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত

লাইলাতুল কদর একটি মহিমান্বিত রাত

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫
  • ৯৩ Time View

ডেস্ক নিউজ :

এ রাত সারা বছরের সমস্ত রাত অপেক্ষা সর্বাধিক মর্যাদাশীল,বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও মহিমান্বিত বলে এ রাতের নামকরণ করা হয়েছে লাইলাতুল কদর। অথবা এ রাতের নাম লাইলাতুল কদর রাখার কারণ হলো-যে লোক মূলত মর্যাদাশীল নয় সেও যদি এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী,কান্নাকাটি, তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে কাটায় তাহলে সে মর্যাদাশীল হতে পারে।

লাইলাতুল কদরের বৈশিষ্ট্য

১. এ রাতে মহাগ্রন্থ আল-কোরআর নাজিল করা হয়েছে। ২. এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। ৩. এ রাতে হজরত জিবরাঈল আ. ফেরেশতাদের এক দলসহ জমিনে অবতরণ করেন। ৪. এ রাতের আরেকটি ফযীলত আর বৈশিষ্ট্য হলোঃ এ রাতে ‘সালামই’ ‘সালাম’ অর্থাৎ মঙ্গলই মঙ্গল। এতে অনিষ্টের কোন নাম-নিশানা নেই। সুবহে সাদেক পর্যন্ত এ অবস্থা বহাল থাকে। এর দ্বারা বুঝা গেল যে,লাইলাতুল কদরের ফজিলত এবং বরকত সুবহে সাদেক পর্যন্ত বাকী থাকে।

বর্তমানে অনেক মসজিদে এ রকম দেখা যায় যে,ইমাম সাহেবগন ফজরের নামাজান্তে মুসল্লীদের নিয়ে লম্বা লম্বা মুনাজাত করেন,এটা ঠিক নয়। কারণ এ মুনাজাত কিসের? যদি লাইলাতুল কদরের জন্য হয়ে থাকে,তা হলে তা তো চলে গেছে সুবহে সাদেক হওয়ার সাথে সাথেই। ফজরের আযান হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে লাইলাতুল কদর শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং দোয়া মুনাজাত, ইবাদত-বন্দেগী যা করার তা ফজরের আগেই শেষ করতে হবে।

ফজরের নামাজের পর লম্বা দোয়ার কোন ফজিলত নেই; বরং সারারাত যারা ইবাদতে কাটিয়েছেন, এ দীর্ঘ মুনাজাত দিয়ে তাদের উপর জুলুম করা হয়। এ রাতটি শান্তিই শান্তি। সুরা কদরে আল্লাহ তাআলা এ চারটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবী হাতেম রা. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সা. একবার বনি ইসরাঈলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যে,সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জিহাদে মশগুল ছিল এবং কখনো অস্ত্র সংবরণ করেনি। সাহাবায়ে কেরাম একথা শুনে কিছুটা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন।

এর কারণ, তারা চিন্তা করলেন আমরা শেষ যামানার নবীর উম্মত। আমাদের গড় আয়ু ষাট-পয়ষট্টি বছর। আর আগের উম্মতেরা একাধারে জিহাদের মত গুরুত্বপূর্ণ আলমই করেছে এক হাজার মাস। আমরা বেশি হায়াত লাভ করলে বেশি বেশি ইবাদত করতে পারতাম। আল্লাহ এই উম্মতের উপর কত মেহেরবান! সাথে সাথে হযরত জিবরাঈল আ.-কে সূরা কদর দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। হজরত জিবরাঈল আ. হাজির হয়ে রসুলুল্লাহ সা.- এর নিকট পায়গাম পৌঁছিয়ে দিলেন। রসুল কারিম সা. ইরশাদ করেন,

লাইলাতুল কদর উপস্থিত হলে হযরত জিবরাঈল আ. একদল ফেরেশতাসহ পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং এ রাতে যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আল্লাহর জিকরে মশগুল থাকে তাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন। (মিশকাত) অন্য হাদিছে আরও বিস্তারিত এসেছে যে, এ রাতে হজরত জিবরাঈল আমিন আ. ফেরেশতাদের এক বিরাট জামাআত নিয়ে জমিনে অবতরণ করেন। তাদের সঙ্গে সবুজ রঙের একটা ঝাণ্ডা থাকে যা কাবা শরিফের উপর উড্ডীন করে দিয়ে ফেরেশতাগণ পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েন। আল্লাহর বান্দা-বান্দীরা যে যেখানে যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে বসে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে, দোয়া করে,তাদেরকে তারা সালাম করে, তাদের সাথে মুসাফাহা করে এবং তাদের দোয়ায় আমিন, আমিন বলতে থাকে।

হজরত আয়শা রা. হতে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর। (বুখারি) সুতরাং ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এই পাঁচ রাতের যেকোনো রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে। কাজেই উক্ত পাঁচ রাতেই লাইলাতুল কদর তালাশ করতে হবে, যদিও ২৭শের রাত প্রসিদ্ধ। লাইলাতুল কদর অনির্দিষ্ট হলেও আমাদের জন্য অনেকটাই নির্দিষ্ট। কেননা, লাইলাতুল কদর সাধারণত রমাযান মাসেই হয়ে থাকে। তা হলে বাকি এগারো মাস থেকে নির্দিষ্ট হয়ে গেল একমাস। এক মাসের মধ্যে আবার শেষ দশকেই হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আরো সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। এরপর এ দশ দিনের মধ্যে আবার বেজোড় রাত্রে হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আমরা লাইলাতুল কদরকে অনেকটা নির্দিষ্টই বলতে পারি।

একটু সদিচ্ছা থাকলেই আমরা সবাই লাইলাতুল কদর পাবো। ইনশাআল্লাহ! হজরত আয়শা রা. একবার বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমরা যদি লাইলাতুল কদর পাই তাহলে কী করবো? উত্তরে রসুল সা. বললেন, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ তুমি পরম ক্ষমাশীল,ক্ষমা করাকে তুমি পছন্দ কর,কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। এই দোয়া বেশি বেশি করবে (ফাজায়েলে রমজান)।

নবীজি সা. বলেন,যে ব্যক্তি এই পূন্যময়ী রাত্রিতে বঞ্চিত রইল সে সমস্ত মঙ্গল হইতেই বঞ্চিত রইল। আর যে অতি হতভাগা সেই শুধু এই কল্যাণ হতে বঞ্চিত থাকে। (ইবনে মাজাহ) রমজানের শেষ দশক এলে লাইলাতুল কদরের তালাশে রসুলুল্লাহ সা. লুঙ্গি মজবুত করে বেঁধে ইবাদত-বন্দেগী করে রাত জাগতেন। পরিবারের লোকদেরও জাগাতেন। হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে পূন্যের আশায় ইবাদত করে, তার পূর্বের কৃত সমস্ত পাপ মাফ করে দেয়া হয়।(বুখারি, মুসলিম)

 

 

কিউএনবি/অনিমা/০৯ মার্চ ২০২৫,/রাত ৯:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit