এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় মিন্টু মিয়া নামের এক ট্রাক ড্রাইভারকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ। ২৭ জানুয়ারি সোমবার চৌগাছা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন রাতে ভুক্তভোগী কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
অপহরণের শিকার মিন্টু মিয়া উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক। এঘটনায় আটক আব্দুল কাদের (৩৪) শহরের বাকপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে। ভুক্তভোগী মিন্টু মিয়া জানান, তিনি ঘটনার দিন দুপুরে শহরের সোহরাবের গ্যারেজে কাজ করছিলেন।
এসময় তার পূর্ব পরিচিত পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের ছেলে হিরা তাকে ফোন করে শহরের গ্যাস পাম্পের সামনে যাওয়ার জন্য বলে। সেখানে যাওয়ার পরে জরুরী কাজের কথা বলে তাকে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নেয়। গাড়িতে উঠিয়ে উপজেলার মাশিলা গ্রামে পৌছালে হিরা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ২৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধর শুরু করে।
এক পর্যায়ে মিন্টুকে চৌগাছা বিশ্বাসপাড়া এলাকায় পানির ট্যাঙ্কি এলকায় আতিয়ার রহমানের পুকুরপাড়ে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে টাকার দাবীতে নির্যাতন করতে থাকে। তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিলে মন্টু তার স্ত্রী রিক্তা খাতুন ও শাশুড়ি রোজিনা বেগমকে জানায়। খবর পেয়ে স্ত্রী রিক্তা খাতুন ও শাশুড়ি রোজিনা বেগম ঘটনাটি চৌগাছা থানা পুলিশকে জানায়। চৌগাছা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মিন্টু মিয়াকে উদ্ধার করে।
এবং ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল কাদেকে আটক করে পুলিশ। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে লোহার রড, পাইপ, হাতুলি উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ২৭ জানুয়ারি সোমবার রাতে মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় অপহরণ ও চাঁদা দাবীর অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে একাধিক সূত্র জানায় এই চক্রটি যখন যে দল ক্ষমতায় যায় তখন সেই দলের নেতা-কর্মী বনে যায়। ৫ আগষ্টের পরে এরা বিএনপি নেতা কর্মী পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চৌগাছা থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আটক আব্দুল কাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এবং অভিযুক্ত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।