বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

মহানবী (সা.)-এর মায়ের জীবনকথা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৫৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : আমেনা বিনতে ওহাব মহানবী (সা.)-এর সম্মানিত মা। তাঁর পিতার নাম ওহাব ইবনে আবদে মানাফ। তাঁর বংশধারা হলো—আমেনা বিনতে ওহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব বিন মুররা। কিলাব পর্যন্ত গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বংশের সঙ্গে মিলে যায়। বিয়ের আগে তাঁর জীবনযাপন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।

বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মা আমেনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে গর্ভে ধারণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) পূর্ণ ৯ মাস তাঁর মা আমেনার গর্ভে ছিলেন। কিন্তু অন্য নারীরা সাধারণত ব্যথা, বমি ইত্যাদি যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হন, তিনি এগুলোর কোনো কিছুরই অভিযোগ করেননি।

মা আমেনা গর্ভবতী থাকা অবস্থায়ই তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব মারা যান। এ কারণে তিনি গভীরভাবে শোকাহত হন। নবীজি (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার সময় পাঁচটি উট, জমিনের কিছু অংশ, একজন দাসী, যার নাম উম্মে আইমান ইত্যাদি ছাড়া কোনো কিছু রেখে যাননি।
হস্তি বাহিনীর ঘটনার ৫০ বছর পর (প্রসিদ্ধ মতে) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার মা আমেনা এই বরকতময় সন্তান প্রসব করেন।

কিন্তু হাদিসবিশারদ, তাফসিরবিদ ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, মহানবী (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন। সাইয়েদা আমেনাকে স্বপ্নযোগে যে সংবাদ দেওয়া হয়েছিল তা তিনি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি দেখলেন, নবজাতক মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর হাত ও হাঁটুতে ভর করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী আঙুল দিয়ে তাসবিহ পাঠ করার মতো ইশারা করছেন। মা আমেনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে পুত্রসন্তান প্রসবের সংবাদ পাঠালেন।

দাদা আবদুল মুত্তালিব নাতির জন্মের সংবাদ পেয়ে দ্রুত চলে এলেন। অতঃপর আমেনা ‘তাঁর গর্ভকালীন স্বপ্ন ও মুহাম্মাদ নাম রাখার নির্দেশ’ ইত্যাদি তাঁর শ্বশুরের কাছে বললেন।

দাদা আবদুল মুত্তালিব শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে কাবা চত্বরে চলে গেলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে আল্লাহর কাছে দোয়া ও শুকরিয়া আদায় করলেন এবং শিশুর নাম রাখলেন মুহাম্মাদ (সা.)। লোকেরা তাঁকে এই নাম রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, যেন আসমানে আল্লাহ তাআলা এবং জমিনে সব মানুষ তার প্রশংসা করুক।’ আর মা আমেনাই মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বপ্রথম দুধ পান করান। তিনি তাঁকে সাত দিন পর্যন্ত স্তন্যদান করেন। অতঃপর হালিমা সাদিয়া (রা.) শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে নিজ গোত্রে ফিরে যান। এখানেই রাসুল (সা.)-এর বক্ষবিদারণের ঘটনা ঘটে। সে ঘটনার পর হালিমা সাদিয়া (রা.) নবী (সা.)-কে মক্কায় মা আমেনার কাছে অর্পণ করেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত নবীজি (সা.) মা আমেনা ও তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন।

একদিন মা আমেনা তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং ছেলেকে মামাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ইয়াসরিবের বনি আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রে যেতে চাইলেন। শ্বশুর আবদুল মুত্তালিবও তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তিনি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর দাসী উম্মে আইমানকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াসরিবে যান। সেখানে প্রায় এক মাস অবস্থান করেন। রাসুল (সা.) ইয়াসরিবে অবস্থানের সময় ইহুদি সন্ন্যাসীরা তাঁকে দেখেছিল এবং তাদের একজন তাঁর দিকে তাকিয়ে তাঁকে বলেছিল : হে বালক, তোমার নাম কী? তিনি জবাব দিলেন, ‘আহমদ’। তখন সে সন্ন্যাসী তাঁর পিঠের দিকে তাকিয়ে বলল, এই বালক এই উম্মতের নবী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মা ও মামাদের বিষয়টি জানান। এতে মা আমেনা অত্যন্ত ভয় পান। তিনি রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ইয়াসরিব থেকে বের হয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মক্কা পর্যন্ত পৌঁছার আগেই আল আবওয়া নামক স্থানে মা আমেনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি অনুভব করলেন যে তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। তিনি দাসী উম্মে আইমানকে তাঁর সন্তানের ব্যাপারে অসিয়ত করে যান। এ সময় তিনি নিম্নোক্ত বাক্যগুলো আবৃত্তি করেন : ‘জীবন মাত্রই মরতে হবেই। প্রত্যেক নতুন বস্তুই একদিন না একদিন পুরাতন ও নষ্ট হয়ে যাবেই। বস্তু যত বড় বড়ই হোক না কেন, তা একদিন না একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবেই। আমিও মারা যাব, কিন্তু আমার স্মৃতি অবশিষ্টই থেকে যাবে। আমি ভালো কিছু রেখে যাচ্ছি। এবং পূতঃপবিত্র সন্তান জন্ম দিয়েছি।’

এরপর মা আমিনা মারা যান এবং যেখানে মারা যান সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

কিউএনবি/অনিমা/২২ জানুয়ারী ২০২৫,/রাত ৮:৩৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit