আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি সিআইডির সদর দপ্তর ভবানীভবনে হাজির হন।
এরপর টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে যান এবং তার সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অভিষেকের ভূমিকা, বৈঠক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ১০ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছিল।
এর আগে এই মামলায় তিনবার তলব করা হলেও অভিষেক হাজিরা দেননি। পরবর্তীতে গ্রেফতার এড়াতে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ দেন। এই সময়ে আদালতের অনুমতি ছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না সিআইডি। একই সঙ্গে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী, অভিষেক এদিন বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে কালীঘাটের বাসায় গিয়ে কিছু নথি নিয়ে পরে ভবানীভবনে যান। তার আগমনকে ঘিরে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়, যেখানে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। অনেকেই দাবি করেন, তারা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি; কারও নাম আবার ব্লক লেটারে লেখা ছিল।
চিঠিতে দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক ব্যানার্জির স্বাক্ষরও ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের জেরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মামলা হয় এবং তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এ বিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ বলেন, এটি আইনি বিষয়, তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
কিউএনবি/অনিমা/১২.০৬.২০২৬/সন্ধ্যা ৬.২৪