মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বৃদ্ধি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৭২ Time View

ডেস্ক নিউজ : দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন ৬৫টি সেবা ও পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাড়ানোর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও একদফা বাড়তে যাচ্ছে। এসব পণ্য ও সেবার তালিকায় রয়েছে-জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, জুস, ফলমূল, পোশাক, টিসু পেপার, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, রেস্তোরাঁর খাবার, বিমানের টিকিট ইত্যাদি। স্বভাবতই ভ্যাট হার বাড়ানোর ফলে এসব পণ্য ও সেবার দাম আরও বাড়বে। ফলে তা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দেবে।

জানা যায়, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভ্যাট হার বাড়াতে চায়নি। মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতেই ভ্যাট বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। উপদেষ্টা পরিষদ নতুন ভ্যাট হারের বিষয়টিতে অনুমোদনও দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঋণের শর্ত হিসাবে আইএমএফ ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ করার শর্ত দিয়েছে।

বাংলাদেশকে দেওয়া ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারে চলমান ঋণ কর্মসূচির চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে গেছে আইএমএফের একটি মিশন। চলমান এই ঋণ কর্মসূচির আকার আরও ৭৫ কোটি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এ অর্থ দিতেও সম্মত হয়েছে আইএমএফ; তবে এজন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর মতো কিছু কঠোর শর্ত দেয় আইএমএফ। জানা গেছে, ঋণ দিতে আইএমএফ বাংলাদেশকে কর-জিডিপির অনুপাত দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর শর্ত দিয়েছে, টাকার অঙ্কে যা ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ টাকা চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যোগ হবে। এ কারণেই বাড়ানো হয়েছে ভ্যাট হার।

বোঝা যাচ্ছে, অর্থনীতির বাস্তবতায় সরকারের ওপর দায়দেনার চাপ বাড়ছে। সরকারের অর্থ দরকার। তাই বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও শুল্ক বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও অনুধাবন করা উচিত বলে মনে করি আমরা। নিত্যপণ্য ও সেবার দাম বেড়েই চলেছে, অথচ মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না। বহু মানুষ ভোগ ও অন্যান্য ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। খাবারের খরচ কমানোর ফলে বাড়ছে পুষ্টিহীনতা। এর প্রভাবে মানুষের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

ভ্যাট হার বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতিই যে কেবল বাড়বে তা নয়, ভ্যাটের বিধিবিধান মানতে না পেরে অনেক ছোট ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন উদ্যোক্তারা। ফলে বেকার হয়ে পড়বে অনেক কর্মী। দেশের অর্থনীতিতে পড়বে এর বিরূপ প্রভাব। তাই কোনো দাতাসংস্থার শর্ত বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে ঋণের শর্তের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আরও জোরালোভাবে দরকষাকষি করা উচিত ছিল। পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সরকার পুনর্বিবেচনা করার চেষ্টা নিতে পারে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ জানুয়ারী ২০২৫,/বিকাল ৩:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit