ডেস্ক নিউজ : ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, বাংলাদেশে একটি মাজারের মসজিদে হামলার ভিডিওকে ভারতের মসজিদে হিন্দুদের হামলা উল্লেখ করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রোববার (৮ ডিসেম্বর) ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমর স্ক্যানার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রচারিত ভিডিও ফুটেজটি হিন্দুদের দ্বারা ভারতে মসজিদে হামলার ঘটনার নয়। বরং, বাংলাদেশের শেরপুরের খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারের মসজিদে হামলার দৃশ্য।
অনুসন্ধানে গত ২৮ নভেম্বর চৌধুরী তানভীর নামের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘শেরপুরের মুর্শিদপুর দরবারে মসজিদে হামলা ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করেছে তথাকথিত ধার্মিক মুসলমানরা। এদের বিরুদ্ধে অনেকের ঈমানী জোস দেখছি না এর কারন কি? কিন্তু আমাদের পবিত্র ধর্মে তো হামলাকারীর ধর্মীয় পরিচয় উপর ভিত্তি করে আল্লাহ এর ঘরে হামলার অনুমতি দেওয়া হয় নি’। অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশের শেরপুরে মুর্শিদপুর পীরের দরবারের মসজিদে হামলার ঘটনার।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন সূত্রে জানা যায়, শেরপুরের খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারে (মুর্শিদপুর পীর) হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তির মৃত্যুর জেরে আবারও হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকায় দরবারে হামলা করে ’বিক্ষুব্ধ জনতা’। এর আগে ২৬ নভেম্বর মুর্শিদপুর পীরের দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও একটি ন্যাশনাল পোর্টাল ঢাকা পোস্টের এক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর সকাল থেকে পীরের দরবারের বিশাল জায়গাজুড়ে থাকা গাছপালা কেটে নেয়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র গাড়িতে লুট করা শুরু করে দুর্বৃত্তরা। পরে দরবারের কিছু মুরিদ ও খাদেম দরবারে প্রবেশ করে দুটি ট্রাকসহ অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
সুতরাং, বাংলাদেশের শেরপুরে পীরের দরবারের মসজিদে হামলার ঘটনাকে ভারতে হিন্দুদের দ্বারা মসজিদে হামলা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
কিউএনবি/অনিমা/০৮ ডিসেম্বর ২০২৪,/রাত ৯:২২