মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হাম ও উপসর্গে আরও ৩ প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ১১শ ছুঁইছুঁই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়তে সহযোগিতা চাই : ডেপুটি স্পিকার মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে এগিয়ে আসুন : ডেপুটি স্পিকার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭১ ঢাবির ৮০ শিক্ষার্থী কে গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি প্রদান করেছে আইএফআইসি ব্যাংক সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গুলো হারাচ্ছে প্রকৃতির রূপ ও বৈচিত্র্য ‎লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ৪, আহত ৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত আটোয়ারীতে প্রান্তিক পেশাজীবিদের ১০ দিনব্যাপি সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ শুরু কিশোর গ্যাং ও মাদক ঠেকাতে রাঙামাটি শহরে সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩৫

চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা, পশ্চিমবঙ্গের ৯ জেলায় বন্ধ থাকবে স্কুল

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৮৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যার উপকূলে আছড়ে পড়তে চলছে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’। তার আগে একাধিক সতর্কতা নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামীকাল বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম-এই নয়টি জেলার সমস্ত স্কুল ছুটি দেওয়া হচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেউ গিয়ে কোনো বিপদে পড়ুক সেই ঝুঁকিটা আমরা নিতে চাই না। তাছাড়া অনেক সময় দুর্গত এলাকার মানুষদের নিয়ে এসে স্কুলে রাখতে হয়। একই সঙ্গে ওই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলায় অবস্থিত সমস্ত ‘ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস’ (আইসিডিএস) গুলিকেও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের সচিবালয়ে নবান্নে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখান থেকে একাধিক সতর্কবার্তা ও বিধিনিষেধ জারির কথা জানান তিনি। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে একটি নির্দেশিকা জারি করে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমস্ত ধরনের পঠন-পাঠন বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণাবর্তা সিস্টেম রয়েছে, সেটা থেকে একটা নিম্নচাপ তৈরির জোরালো সম্ভাবনা আছে এবং এটা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে-এরকম একটা আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর এবং আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে সেটা শক্তি বাড়িয়ে বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হিসাবে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাত থেকে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালের মধ্যে পুরি এবং সাগরদ্বীপের যে কোনো একটি জায়গায় এটা ল্যান্ড ফল হবে। তখন হাওয়ার গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকবে।

কিন্তু কোথাও কোথাও প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে একটা প্রভাব পড়তে পারে যেমন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা, উপকূল রক্ষী বাহিনী, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরের সাথে কথা বলেছেন। এই দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত আছে এবং যার জন্য রাজ্যস্তরে এবং জেলা স্তরে এই দুটো জায়গাতেই ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম চালু হয়ে গেছে এবং এটা ২৪ x৭ ভিত্তিতে কাজ করছে।

এর পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে। উপকূলের ওইসব এলাকায় যেসব বাসিন্দারা থাকেন, তাদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যারা নিচু জায়গায় থাকেন, তাদের যেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুরসহ উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে যে সমস্ত মন্ত্রীরা আছেন, তাদের এলাকা ছাড়তে বারণ করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রের ধারে পর্যটকদের আনাগোনা একটু বিধিনিষেধ জারি করা করা হচ্ছে, তার কারণ প্রকৃতি কখন তার ভয়াল রূপ ধারণ করবে, সেটা আমরা কেউ জানি না, তাই আমরা আগামীকাল থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃকা দেশ বলে এখানে ঝড়-বৃষ্টি বেশি হয়। এই কারণে আমাদের অনেক সাইক্লোন সেন্টার তৈরি আছে। তাছাড়া অনেক সময় স্কুল, কলেজেও ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। রাজ্যের যে সমস্ত জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই সমস্ত জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে অবজারভার করে পোস্টিং করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র হাত থেকে বাঁচতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ চিন্তা-ভাবনা করছে। বিমানকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া, ঘুর পথে চালানো হতে পারে কিনা এসব ব্যাপার নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তারা। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব রেল ১৩৫টি ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২ অক্টোবর ২০২৪,/রাত ১১:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit