স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : যশোরের মনিরামপুরে টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র দাসের অপসারনসহ বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধর কর্মসূচি পালন করেছে। অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য, অনৈতীক কর্মকান্ড, ক্ষমতার দাপটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের সাথে দূর্ব্যবহারসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে গতকাল রোববার সকাল ১১ টার দিকে স্কুল চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তর করে মইন হোসেন, নয়ন হোসেন ও আলমগীর হোসেনকে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা আদায়ের পর আত্মসাত করেন। হোসেন আলী নামে এক অভিভাবক সদস্য ও জয়নাল আবেদীন নামে এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক এক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
বিষয়টি এলাকার অধিকাংশ মানুষের মুখে মুখে। ফলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সহকারি শিক্ষক রিপন হোসেন, মোক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, ধনঞ্জয় কুমার নামে এক শিক্ষক প্রায় আড়াই বছর যাবত অনুপস্থিত থাকলেও অবৈধভাবে প্রতিমাসে তার বেতণভাতা উত্তোলন করে প্রধান শিক্ষক ভাগবাটোয়ারা করেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান, রিয়াদ হোসেন, নবম শ্রেণির ইলিয়াস হোসেন জানান, বিভিন্ন অজুহাতে প্রধান শিক্ষক তাদেরকে অফিস কক্ষে নিয়ে গালাগালিসহ বেত্রাঘাত করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, গত ৫ আগষ্ট থেকে প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছে।
এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র দাস বলেন, তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিনোদ কুমার রায় অর্থ বাণিজ্য করেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিনোদ রায় দোষারোপ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে নিয়োগের টাকা আত্মসাত করেন। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:০০