এম এ রহিম চৌগাছা (যশোরে) : যশোরের চৌগাছায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। কয়েক দিন বাদেই প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙের আঁচড়। তবে গত বছরের চেয়ে কমেছে পুজা মন্ডপের সংখ্যা।
উপজেলার পৌর এলাকার কালিতলা কালি মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এই মন্দিরের ভেতরে এখন শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় প্রতিমা। বাঁশ-কাঠ আর কাদা মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমা গুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মের লোকজন। এরই মধ্যে মন্ডপের কাঠামো তৈরি এবং খড়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে মাটির শেষ কাজ। এরপর মাটির তৈরি প্রতিমায় রং তুলির কাজ করা হবে।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী (কারিগর) যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের মাহীন্দ্র দাস ও তার সহকারী একই গ্রামের গৌয়ুর মন্ডল, মনোজীত ঢালী ও কৃষ্ণ সরকার। তারা ৩০ বছর ধরেই প্রতিমা তৈরির সাথে জড়িত। প্রতিমা বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে। প্রতিটি প্রতিমা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার অর্ডার পেয়েছেন। দুর্গাপূজা ছাড়াও তারা কালিপূজা, লক্ষীপূজা, সরস্বতী পূজা, জগৎ ধাত্রী পূজা সহ বিভিন্ন ধরনের পূজার প্রতিমা তৈরি করেন।
এ মৌসুমে তারা ৭ টি দুর্গাপূজার প্রতিমা সেট তৈরি করছেন। মাহীন্দ্র দাস ও তার দল সারা বছরই প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। প্রতিমা বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে। এসব প্রতিমা দেশের সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মাগুরায় তারা বিক্রি করেন। মাহীন্দ্র দাস জানান, প্রতিবছর তিনি ১০ টিরও বেশি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পান। এ বছর তিনি অনেক অর্ডার পেলেও তৈরী করছেন ৭ টি প্রতিমা। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রতিমা গড়ার কাজ খুবই পছন্দ করি। প্রায় ২৫ বছর আগে থেকে প্রতিমা গড়ার কাজ করছি। এখন আমার নেশা হয়ে গেছে। এ কাজে আমি খুবই আনন্দ পায়।
চৌগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল বলেন, আগামী ৮ অক্টোবর মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু। ১২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজা থেকে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ। গত বছর চৌগাছাতে ৪৯ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে এ বছর দুর্গাপূজার মন্ডপের সংখ্যা কমেছে। এ পর্যন্ত এ বছর ৪০ টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজ রবিবার বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসক মহদয়ের সাথে জরুরী মিটিং রয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধাণর সম্পাদক দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, দেবীর আগমন পালকিতে ও প্রস্থান হবে ঘোড়ায় চড়ে। যেহেতু কোনও দলীয় সরকার ক্ষমতায় নাই, তাই কোনও নেতাদের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কোনও আশা নাই। সরকারীভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রতিবার সকল মন্দিরে করে থাকে সকল সরকার এবারও পাবো এরকম আশ্বাস আমরা পেয়েছি।
চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, বিগত বছর গুলোর মত এ উপজেলায় অনুষ্ঠিত সকল দুর্গা মন্দিরের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা শাহা বলেন, উপজেলার যে সকল মন্দিরে পুজা উদযাপন হবে সেসব মন্দিরে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:০০