শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

ইসলামে ট্রল বা ব্যঙ্গ করা কবিরা গুনাহ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : ট্রল করা প্রতিবাদের মাধ্যম হলেও এর মাধ্যমে অন্যকে অন্যায়ভাবে সম্মানহানি করা হয়। যা ইসলামি মূলনীতির বিপরীত। প্রতিবাদ করতে হবে সুষ্ঠু ও মার্জিত মাধ্যমে। কাউকে কটাক্ষ করে বা ব্যঙ্গ করে প্রতিবাদ জানানোর অনুমোদন ইসলাম দেয় না। আর যদি প্রতিবাদ বা এমন কোনো ভালো উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে তো তা আরও আগেই হারাম।

ট্রল বা ব্যঙ্গ করে মজা নেয়া এবং অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা মুমিনের কাজ নয়। অপর ভাইকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা, তার দোষ চর্চা করা মুমিনের গুণ হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, আল্লাহর আয়াত ও তার রসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে? অজুহাত দেখিও না। তোমরা ঈমান জাহির করার পর কুফরিতে লিপ্ত হয়েছ। আমি তোমাদের মধ্যে এক দলকে ক্ষমা করলেও, অন্য দলকে অবশ্যই শাস্তি দিব। (সুরা তওবা ৬৫-৬৬)। কিছু মানুষকে দেখা যায় অপরের নাম নিয়ে ট্রল করে। নাম নিয়ে ট্রল করাও মারাত্মক গুনাহ। নাম সবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষকে তার নামেই ডাকা উচিত। কখনো কারো নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করা উচিত নয়। অন্যকে কটাক্ষ করা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করা নিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

হে মুমিনগণ, পুরুষগণ যেন অপর পুরুষদের উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীগণও যেন অপর নারীদের উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যে নারীদের উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করো না এবং একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ইমানের পর গুনাহের নাম যুক্ত হওয়া বড় খারাপ কথা। যারা এসব থেকে বিরত না হবে তারাই জালেম। (সুরা হুজুরাত ১১) মহানবী (স.) এক হাদিসে বলেছেন, এক মুসলিম অপর মুসলিমের (দীনি) ভাই। মুসলিম ব্যক্তি অপর মুসলিমের ওপর অবিচার করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না। (মুসনাদে আহমাদ ১৬৬৪৪)। 

আমাদের সমাজে কারো অসুস্থতা এমনকি মৃত্যু নিয়েও ট্রল করার প্রবণতা দেখা যায়। মানুষ পাপী হলেও তার অসুস্থতা ও মৃত্যু নিয়ে ট্রল করা উচিত নয়। একদিন আমাদের রসুল (স.)-এর পাশ দিয়ে জানাজার জন্য একটি লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় তাকে বলা হয়েছিল, লাশটি একজন ইহুদির। তিনি বলেছিলেন, ‘সে কি মানুষ নয়?’ (বুখারি ১৩১২) মানুষের বাকস্বাধীনতা আছে, কিন্তু এর সীমা কতটুকু তা আমাদের জানা দরকার। একজন মানুষ অন্যকে নিয়ে কখনোই হাসি, তামাশা করতে পারে না। কারো দোষ প্রকাশ হলে তা নিয়ে ট্রল না করে গোপন রাখাই হলো ইসলামের শিক্ষা। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 

যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন মুসলিমের দোষ গোপন করে নেবে, আল্লাহ তার দোষ ত্রুটিকে দুনিয়া ও আখেরাতে গোপন করে রাখবেন। (ইবনে মাজাহ ২৫৪৪) সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য জরুরি হলো অপরকে ট্রল না করে গোপনে তাকে সংশোধন করা এবং তার কল্যাণ কামনা করা। জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার জন্য বায়আত গ্রহণ করলাম। (সহিহ মুসলিম : ৫৬)। আল্লাহ আমাদের ট্রলসহ সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে হেফাজত করুন ! আমিন!

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ৯:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2025
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৩
IT & Technical Supported By:BiswaJit