আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির (ই-৩) উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন। মস্কো ও বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, এ পদক্ষেপ ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির (জেসিপিওএ) আওতায় থাকা ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করেছে ইউরোপের তিন দেশ। এর ফলে ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ই-৩ দেশগুলিকে আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। অন্যথায় এর পরিণতি হবে ভয়াবহ, বিপর্যয় ডেকে আনবে।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে ইরান ইস্যুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা গঠনমূলক পদক্ষেপ নয় বরং এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।
রাশিয়া ও চীন উভয়ই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং জেসিপিওএ-র স্বাক্ষরকারী দেশ।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউরোপীয় দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনে সতর্ক করে বলেছেন, এই বেআইনি ও অযৌক্তিক পদক্ষেপের জবাব যথাযথভাবে দেওয়া হবে।
২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে জেসিপিওএ থেকে সরে গিয়ে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছিল। এরপর থেকে ইউরোপীয় পক্ষগুলোও তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে ইরান ধাপে ধাপে নিজের চুক্তিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি কমিয়ে আনে।
এ বছরের জুন মাসের আগে পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে আলোচনার সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।
সূত্র: প্রেস টিভি
কিউএনবি/অনিমা/২৯ আগস্ট ২০২৫/রাত ১১:১৩