বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‎লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৮২টি সিম ও ২০টি অ্যাপ ইরানকে কিছুতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা শুল্ক দেবে কিনা, ভাবছে চীন ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহার, ইরানের বিজ্ঞানীদের অভিনব আবিষ্কার ইরানে তুরস্কের সম্ভাব্য হামলার খবর মিথ্যা, দাবি তুরস্কের তুরস্কে গ্যাস পাইপলাইনে হামলার সম্ভাবনা, সতর্ক করলেন পুতিন আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিশ্বকাপে কেনো মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে চান না মেসি? রাঙামাটিতে ডিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ  ৩ মাদক ব্যবসায়ি আটক ‎লালমনিরহাটে অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার-২

যে কারণে ফের বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৪৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : ফের চালসহ বেশ কিছু নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে৷ গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়।  পর কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজরা ভোল পালটে আবার সক্রিয় হয়েছে৷

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছিল৷ কিন্তু এখন আবার বাড়ছে৷ এর কারণ বাজারের পুরোনো খেলোয়াড়রা আবার সক্রিয় হয়েছে৷’

আর ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘এখন আবার আগের অবস্থায় চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট ফিরে এসেছে৷ শুধুমাত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতবদল হয়েছে৷’

মোটা চালের দাম গত এক সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে পাঁচ-ছয় টাকা৷ এক সপ্তাহ আগে এক কেজি মোটা চালের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, এখন তার দাম ৫২ থেকে ৬০ টাকা৷ মিনিকেট চালের দামও কেজিতে ছয় টাকা বেড়েছে৷

আলু আর পেঁয়াজের দাম কয়েক মাস ধরেই বেশি৷ আলুর কেজি এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা৷ দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি৷ আলু আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে৷ এছাড়া আলু আমদানিতে থাকা তিন শতাংশ এবং পেঁয়াজ আমদানিতে থাকা ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ তারপরও কমছে না এই দুইটি পণ্যের দাম৷

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘চালের দাম কেন বাড়ছে জিজ্ঞেস করলে ব্যবসায়ীরা আপনাকে বলবে বাজারে ধান কম, তাই তাই চালের দাম বেড়েছে৷ বন্যার কথাও বলবে তারা৷ কিন্তু আসল ঘটনা অন্য জায়গায়৷ এখন বাজারে ধান কম থাকলেও ধান আছে উত্তরাঞ্চলের চাতাল মালিকদের কাছে৷ তারা আগেই ধান কিনে স্টক করে রেখেছে৷ এখন তারা সুযোগ পেয়ে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে৷ সর্বোচ্চ ৩০জন চাতাল মালিক এটা নিয়ন্ত্রণ করছে৷’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা সরকার পতনের পর কয়েকদিন ভয়ে সক্রিয় হয়নি৷ তখন চালের দাম বাড়েনি৷ কিন্তু এখন তারা আবার সক্রিয় হয়েছে৷ তারা আগে ছিলেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্রের লোক, এখন তারা ভোল পালটে নতুনদের লোক হয়ে সিন্ডিকেট শুরু করেছে৷ আগে বলত জয় বঙ্গবন্ধু, এখন বলে জয় ইউনূস৷’

চালের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নতুন ধান উঠতে আরও এক দেড়-মাস লাগবে৷ এই সিন্ডিকেট না ভাঙতে পারলে চালের বাজার আরও অস্থির হতে পারে৷’

ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গেছে৷ দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ টাকা, যা এখন ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে৷ কোথাও কোথাও ব্রয়লারের দাম আরো বেশি৷ সোনালি মুরগির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা হয়েছে৷ ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম ডজনপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়েছে৷ প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে৷ আর ফার্মের মুরগির সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজন ১৫০ টাকা দরে৷ এখনেও পাঁচ টাকা বেড়েছে৷

অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমলেও বাড়ছে কাঁচমরিচের দাম৷

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘মুরগি আর ডিমের দাম নির্ভর করে পোল্ট্রি ফিডের ওপর৷ মোট উৎপাদন খরচের ৭০ ভাগই ফিডের দাম৷ ফিডের দাম কমেনি৷ আগে যা ছিল, তা-ই আছে৷ এই ফিড উচ্চমূল্যের জন্য সরকারের নীতি ও সিন্ডিকেট দায়ী৷ এরপরও দাম কমার কথা৷ কিন্তু সেটা কমছে না করপোরেটদের কারণে৷ তারা ডিম ও মুরগির দাম এখনো সিন্ডিকেট করে ঠিক করছে৷ মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন৷ সরকারের পতনের পর কয়েকদিন তারা কিছুটা দমে গেলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছে৷ আর বন্যার কারণে অনেক খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷’

চাষের মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলে ভারতে রপ্তানি বন্ধ ও ইলিশের মৌসুম হলেও ইলিশের দাম এখনো চড়া৷এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকায়৷ ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা৷ আর ৫০০ থেবে ৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের জন্য গুণতে হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা৷

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘সরকার পতনের পর নিত্যপণ্যের দাম কমেছিল৷ তখন চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছিল৷ কিন্তু এখন আবার দাম বাড়ছে৷ কারণ, বাজারে আবার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজরা ফিরে এসেছে৷ পুলিশসহ প্রশাসনে ঢিলেঢালা ভাব৷ পুলিশের অভাবে অভিযান হচ্ছে না৷ম্যাজিস্ট্রেটও পাওয়া যাচ্ছে না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায়৷ ফলে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না৷ সরকার যদি বাজার মনিটরিংয়ে নজর দেয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ করে, তাহলে দাম বাড়ার সুযোগ নেই৷ সরকারকে এই দিকে নজর দিতে হবে৷’

তার কথা, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণের এখনই সময়৷ কারণ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এখন মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত৷ দেরি করলে আবার পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে৷’

আর ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিজে কারওয়ান বাজারসহ আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখেছি৷ তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে চাঁদবাজি, সিন্ডিকেট কয়েকদিন না থাকলেও এখন আবার শুরু হয়েছে৷ এটা হাতবদল হয়েছে৷ পরিস্থিতি আগের মতোই, শুধু নতুন গ্রুপ এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে৷ ফলে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে৷’

তিনি বলেন, এর সঙ্গে বন্যার একটা প্রভাব আছে৷ কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম কমেছে৷ কিছু পণ্যে ‘ডিউটি’ কমেছে৷ এর ইতিবাচক প্রভাব তো বাজারে পড়া উচিত, কিন্তু পড়ছে না৷ বাজারকে অস্থির করতে এক গ্রুপ ব্যবসায়ী আবার সক্রিয় হচ্ছে৷ তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে৷

 

কিউএনবি/অনিমা/০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সকাল ১১:৪৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit