স্পোর্টস ডেস্ক : ৪৩ রানের বিনিময়ে হাসান মাহমুদ ৫ উইকেট পূর্ণ করেছেন। টেস্টে এটা তার প্রথম ফাইফার। নাহিদ রানা নিয়েছেন ৪টি। তাসকিনের শিকার ১। সোমবার পেসারদের কল্যাণে শান মাসুদের দলকে ১৭২ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। জয় এবং হোয়াটওয়াশের জন্য ১৮৫ রান করতে হবে টাইগারদের। আগের ম্যাচে স্বাগতিকদের ১০ উইকেটে হারিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দারুণভাবে তৃতীয় দিন শেষ করা বাংলাদেশ রাওয়ালপিন্ডিতে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) কয়েক ওভারের মধ্যেই উইকেটের দেখা পেয়ে যায়। আগের দিনের অপরাজিত থাকা সাইম আয়ুবকে ২০ রানে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। এরপর প্রথম সেশনে শুধুই নাহিদ রানা।বাঁহাতি ব্যাটারকে ডানহাতি পেসারের ওভার দ্য উইকেট থেকে বল করার যে সুবিধা, সেটা কাজে লাগিয়েই শান মাসুদকে আউট করেন নাহিদ। চাপাই এক্সপ্রেসের লেগসাইডে ফেলা বলটা বেরিয়ে যেতে থাকে দ্রুতগতিতে। তাতে ব্যাট ছুঁয়ে আউটসাইড-এজ হন শান মাসুদ। আউটসাইড-এজ হওয়া বলটা উইকেটরক্ষক লিটন দাসই লুফে নেন। ২৮ রানে ফিরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। নাহিদ নিয়েছেন মহামূল্যবান বাবর আজমের উইকেটও। ১১ রানে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাবেক অধিনায়ক।
পাকিস্তান কাঁপছিল, তখনই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। নাহিদ রানার বলে স্লিপে সাদমান ইসলামকে ক্যাচ দেন তিনি। কিন্তু সাদমান তা তালুবন্দি করতে পারেননি। তবে উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি নাহিদকে। পরের ওভারেই তিনি ফেরান প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান সৌদ শাকিলকে। রিজওয়ানকে জীবন দেয়ার খেসারত লাঞ্চের আগ পর্যন্ত দেয় বাংলাদেশ। ৬৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার বিপর্যয় সামলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রিজওয়ান। জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা বাংলাদেশের কাছে রীতিমতো গলার কাঁটা হয়ে উঠেন তিনি। তবে লাঞ্চ বিরতির পর দ্রুতই রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান হাসান মাহমুদ। আগা সালমানের সঙ্গে ৫৫ রানের জুটির পর ফিরেন রিজওয়ান। ৭৩ বলে ৪৩ রান করেন পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক। পরের বলে হাসান তুলে নেন মোহাম্মদ আলির উইকেট।
৭ ওভার পর আবার আক্রমণে আসেন নাহিদ। নিজের ব্যক্তিগত নবম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি তুলে নেন আবরার আহমেদের উইকেট। আবরার স্লিপে ক্যাচ দেন শান্তকে। পরের এক উইকেটের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। কিন্তু উলটো বাংলাদেশের খুচরা ভুলের সুযোগ নিয়ে দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন আগা সালমান। শেষ পর্যন্ত ৭১ বলে ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যপ্রান্তে মীর হামজা উইকেট দেন হাসান মাহমুদকে।
তৃতীয় দিন লিটন-মিরাজের জুটিই বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলে । ছবি: এপি
তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ঝলক দেখিয়েছিলেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ। ১৩৮ রান করা লিটন দাসকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি। আবদুল্লাহ শফিককে ৩ রানে ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা খুররাম শেহজাদকে শূন্য রানে ফেরান তিনি।
শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের তৃতীয় দিনের শুরুটা হয়েছিল খুব বাজেভাবে। ২৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় টাইগার বাহিনী। সেখান থেকে লিটন দাস ও মেহেদী মিরাজের ইতিহাস-গড়া জুটি বাংলাদেশকে টেনে তোলে। মিরাজ ২২ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও, লিটন দেড়শতক থেকে ১২ রান দূরে থাকতে আউট হন। প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রান করা পাকিস্তানের চেয়ে ১২ রানে পিছিয়ে থেকে অলআউট হয় বাংলাদেশ।