বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতি আগাম কিছু কথা

রাবেয়া বশরী, সহকারী শিক্ষক।
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪
  • ৭৬৭ Time View

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতি আগাম কিছু কথা

——————————————————————

বাংলাদেশ এখন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ। এখনো বাতাসে লাশ আর রক্তের ভারী গন্ধ। ফ‍্যাসিবাদ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথেচ্ছাচার ব‍্যবহার করে অকার্যকর করে দিয়েছে, সরকারি স্থাপনাগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত, রিজার্ভ সংকট, অনেকগুলো ব‍্যাংকের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য ভঙ্গুর, বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত, দুর্নীতি এবং জবাবহীনতার রাজত্বে ট‍্যাক্স- জিডিপি রেশিও ছিল- প্রত‍্যাশিত রেশিওর চেয়ে কম, ঘাটতি বাজেট, দেশীয় ব‍্যাংকগুলো থেকে সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণ।

ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো একে তো রেভিনিউ জেনারেট করবে না, উল্টো এইগুলোকে মেরামত করে কার্যকর করতে উপর্যুপরি অর্থের প্রয়োজন। তাছাড়া এই ফ‍্যাসিবাদ উন্নয়নের জুজু দেখিয়ে দৃষ্টিগ্রাহ‍্য কাঠামোগত উন্নয়ন করলেও, গুণগত মানোন্নয়ন যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত ক্রমাগত অবহেলিত ছিল। নতুন বিতর্কিত কারিকুলাম নিয়েও হয়তো চিন্তা- ভাবনা থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন বা তৎপরবর্তী সরকারের।

তবে আশার কথা হলো পুজিঁবাজার এর মধ‍্যে চাঙ্গা হয়েছে। স্বজ্জন শিক্ষিত মানুষজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীতে আছেন এবং তৎপরবর্তী সরকারে থাকবেন বলেই স্বাধীন দেশে আশা রাখি। দেশের অর্থনীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, ফিন‍্যান্সিয়াল মার্কেটে জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরবে। ট‍্যাক্সের টাকার জনকল‍্যাণমূলক কাজে ব‍্যবহারের নিশ্চিতয়তা না পাওয়ায় আমার আপনার মতো অনেকেই ট‍্যাক্স দিতে অনাগ্রহী ছিলেন। এখন এমনসব দায়িত্বশীল নাগরিক ট‍্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবেন। রেভিনিউ জেনারেশন বাড়বে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে, অসম চুক্তিগুলোতে রিভিশন হবে, পররাষ্ট্রনীতিতেও আসবে পরিবর্তন। ধারণা করা যায়, মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরালো করার চেষ্টা থাকবে। সংবিধানে আসবে পরিবর্তন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে এবং অন‍্যান‍্য প্রতিষ্ঠানের রদবদলের ব‍্যাপারটা আমরা এর মধ‍্যে অবগত। কুক্ষিগত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে পুর্নবন্টন হবে। এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।

কথা হলো এই ট‍্র‍্যান্জিশনাল পিরিয়ডের এইসব কর্মকাণ্ড রাতারাতি হয়ে যাবে না, সময় লাগবে, দায়িত্বশীল ব‍্যক্তিরাই দায়িত্বে থাকবেন এবং তারা দায়িত্বশীলতার সাথেই দায়িত্ব পালন করবেন এই বিশ্বাস রেখে আমরা নিমোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখব।

১. আমরা প্রথমেই জানব যে, একটা রাষ্ট্র দৃষ্টান্তমূলক হতে পারে, পারফেক্ট হতে পারে না।

২. অনিয়ম অব‍্যবস্থাপনা একদম জিরোতে চলে আসবে এইরকম আশা করে এর ব‍্যতি- ব‍্যতিক্রমে আশাহত না হওয়া। একটা নিয়মতান্ত্রিক ব‍‍্যবস্থা অনিয়ম অব‍্যবস্থাপনাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখে, পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

৩. গঠনমূলক সমালোচনা করা। শুধু দোষ ধরার জন্য দোষ খুঁজলে আমরা পদে পদে দোষ খুঁজে পাব। কোনটা ধর্ত‍ব‍্য আর কোনটা না – এই বোধটুকু যেন আমরা সচেতনভাবে রাখি। অনাহুত প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে আমরা যেন নীতি- নির্ধারকদের ব‍্যতিব‍্যস্ত রাখার অপচেষ্টা না করি। আমাদের রোল হউক সহযোগিতামূলক; বিদ্বেষপরায়ণ না।

৪. আমরা এইবার প্রমাণ করেছি এই দেশটা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর না; আমাদের সকলের। আবার রাজনৈতিক মতাদর্শের কাউকে অপর ভাবার কিছু নেই। আমরা যেন সর্বক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক বা গণতান্ত্রিক সরকারের সহযোগী হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি। আমাদের সোনার দেশকে খাঁটি করার দায় আমাদের প্রত‍্যেকের।

৫. আমাদের বর্তমান বীরদের আমাদের বর্তমান প্রজন্ম খুব ভালো করে চিনি। তবে আমরা যেন আমাদের পূর্ববর্তীদের অবদান এবং গণতন্ত্রের জন‍্য ত‍্যাগ- তিতিক্ষার ব‍্যাপারেও প্রয়োজনীয় ধারণা রাখি। সুবিধাভোগীরা ছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই জানা অজানা জুলুমের শিকার ছিল। আমরা আর কয় পার্সেন্টের খবর পাই। তাই এই স্বাধীনতার ভাগ সব পেশার, সব শ্রেণির। সর্বস্তরের মানুষকেই আমরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে দেখেছি যে যার ভূমিকায়। এত সংখ্যক মানুষকে রিকগনিশন দেয়া সম্ভব না। আর একটা বড় অংশ রিকগনিশন পেতে উস‍্যুকও না। নিজের দায়িত্ববোধ, ন‍্যায়বোধ থেকে যা করণীয় করেছেন। আমরা যেন প্রত‍্যেকে প্রত‍্যেকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি। এই অর্জন সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। কারো কম বা কারো বেশি।

৬. মানুষ প‍লিটিক‍্যাল এনিমেল। কোন আন্দোলনকে অরাজনৈতিক রাখার সুযোগ নেই। মানুষজন নিজ মতানুসারে বিভিন্ন মতাদর্শের অনুসারী। সে বিএনপি হোক, গণতন্ত্র মঞ্চ হোক, গণঅধিকার পরিষদের হোক বা ইসলামী দলগুলার। সবার অবদানকেই সম্মান করতে হবে এবং কোন পক্ষ মাজলুম হলে তার পক্ষে সবাইকে দাড়াতে হবে।

৭. অন্তরবর্তী সরকার বা তৎপরবর্তী সরকার গুণগত মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে মনোযোগী হবেন বলেই আশা করা যায়। আমরা দৃষ্টিগ্রাহ‍্য উন্নয়নের ঘাটতি দেখে যেন বিভ্রান্ত না হই।

৮. আমরা নিজ পরিবারের কথা যদি চিন্তা করি, দেখি যে- মাত্র চারজনের পরিবারের চারজনের কত মত পথের কত অমিল। তারপরও আমার আপনার প্রত‍্যেকের সুগঠিত পরিবার। একটা জাতিতে একটা দেশেও কত জাত – ধর্মের ভিন্ন ভিন্ন মানুষের বসবাস। সবার মাঝে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ মেলবন্ধন থাকুক।

আমাদের ইতিহাস মুক্তি পাক, দূরত্বগুলো ঘুচে যাক এবং আমাদের সোনার বাংলা হোক আমাদের সবার- এই প্রত‍্যাশায়।

 

 

লেখিকাঃ রাবেয়া বশরী, সহকারী শিক্ষক, বাংলাদেশ ইন্টারন‍্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, নির্ঝর, ঢাকা ক‍্যান্টনমেন্ট।

 

 

কিউএনবি/বিপুল/১৫.০৮.২০২২/সকাল ১০.৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit