ডেস্ক নিউজ : নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১৭ সদস্যের উপদেষ্টামন্ডলীর মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দােলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তারা দু’জনই ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
এদিকে শপথ অনুষ্ঠানের পর আসিফ মাহমুদ সতর্ক করে বলেছেন, ব্যক্তিগত লাভের আশায় পরিচিত কেউ যেনো তদবির না করেন। শুক্রবার রাতে আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে লিখেন, ‘ব্যক্তিগত লাভের আশায় আবদার ও তদবির করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আমার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। দেশ গঠনে পরামর্শ থাকলে জানাবেন।’
২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে বর্তমানে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন আসিফ মাহমুদে। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আকুবপুর গ্রামে।
আরেক পোস্টে আসিফ লিখেছেন, ‘শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব, ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নই অন্তর্বর্তী সরকারে আমাদের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য।’
শপথ অনুষ্ঠানের পর ছাত্র-জনতার প্রতি বার্তা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আরেক সমন্বয় নাহিদ ইসলামও। আন্দোলন পরবর্তী যে সব শিক্ষার্থীরা এখনো রাস্তায় থেকে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে, তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে মনে করেন অন্তবর্তীকালীন সরকারে জায়গা পাওয়া এই উপদেষ্টা।
ফেসবুকে নাহিদ লিখেন, ‘সবার আত্মত্যাগের ফলেই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা করতে পারছি। সবার কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কয়েক দিন ধরে আমি নিরাপত্তাজনিত কারণে ও শারীরিক অসুস্থতার জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম।’
‘বাংলাদেশ একটা অস্থির সময় পার করছে। লুটপাট, সহিংসতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নসহ জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এখনো ফ্যাসিস্ট রেজিম সমূলে উৎপাটন করা হয়নি। জাতীয় স্বার্থে ও গণ-অভ্যুত্থান রক্ষার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করাকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা এখনো রাস্তায় থেকে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। তাঁদের সাধুবাদ জানাই। আশা করি, খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ও জনজীবনে নিরাপত্তা ফিরে আসবে।’
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ দেখেছে বাংলাদেশ। একমাসেরও বেশি সময় ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় শেখ হাসিনা। রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রাণ হারায় তিন শতাধিক মানুষ। এতে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এমন পরিস্থিতিতে অন্তবর্তীকালীন সরকার দিয়ে দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।
কিউএনবি/আয়শা/০৯ অগাস্ট ২০২৪,/বিকাল ৪:৫৪