স্পোর্টস ডেস্ক : এবারের ইউরোতে জার্মানির ব্যর্থতার পরেই থমাস মুলারের জাতীয় দল ছাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অবশেষে সেটাই সত্যি হলো। আজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মানির জার্সিতে আর খেলবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। তখন থেকেই মুলারের অবসর নেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল। আজ গুঞ্জন সত্যি করে মুলার বলেছেন, ‘১৩১ ম্যাচ খেলে ৪৫ গোল করার পর জাতীয় দল থেকে বিদায় নিচ্ছি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময় গর্বের ব্যাপার। ‘
‘১৪ বছর আগে যখন প্রথম জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম তখন এতকিছু আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এই দীর্ঘ সময়ে দল হিসেব আমরা উদযাপন করেছি, আবার কখনো চোখের পানিও ফেলেছি। সমর্থক ও জার্মান সতীর্থদের ধন্যবাদ, কারণ অনেক বছর তারা আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। ‘জাতীয় দল ছাড়লেও ক্লাবের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মুলার। বর্তমানে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন তিনি।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মুলার। ওই টুর্নামেন্টেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আন্তর্জাতিক গোল পেয়েছিলেন মুলার। ওই আসরে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছিলেন তিনি। গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি জিতে নিয়েছিলেন আসরের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন মুলার। ব্রাজিলের মাটিতে হওয়া এই বিশ্বকাপেও ৫ গোল করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও আছে। এছাড়া সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিখ্যাত সেই ৭-১ গোলে জেতা ম্যাচেও একবার জালের খোঁজ পেয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জেতা ম্যাচের ১২০ মিনিটই মাঠে ছিলেন মুলার।
এবারের ইউরো ছিল মুলারের অষ্টম শীর্ষ টুর্নামেন্ট। পুরো আসরে মাত্র দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার সুযোগ পান তিনি। শেষ আটে স্প্যানিশদের বিপক্ষে ৮০তম মিনিটে নামেন বদলি হিসেব। ম্যাচটি হেরে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই থেকে ছিটকে যায় জার্মানরা।
২০১০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় মুলারের। এরপর খেলেছেন ১৩১ ম্যাচ। জার্মানির জার্সিতে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন দুই কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস (১৫০) এবং মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৩৭)। জার্মানদের হয়ে গোলদাতাদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আছেন মুলার। যা তাকে বসিয়েছে কিংবদন্তি কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগের পাশে।
মুলার জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন সাবেক জার্মান কোচ জোয়াকিম লোর সময়ে। ২০১৯ থেকে দীর্ঘদিন দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ২০২০ ইউরো দিয়ে জাতীয় দলের ফেরেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। জার্মানি দলের আরেক সদস্য তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুসও ইউরো শেষে বিদায় নিয়েছেন। মুলারের মতো তিনিও ২০২৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ জুলাই ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৫৫