স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচের তখন ৬৪তম মিনিট। খেলা গোলশূন্য। চোখে পানি নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। মারাত্মক ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। চোট টা অবশ্য পেয়েছিলেন প্রথমার্ধের ৩৬তম মিনিটে। কলম্বিয়ার ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের এ ডিফেন্ডারের বুটের আঘাত লাগে মেসির গোড়ালিতে। মারাত্মক চোটের পরও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান তিনি। যদিও কিছুটা খোঁড়াতে দেখা যায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে।
তবু দলের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকার জন্যই মাঠ ছেড়ে যাননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা চালিয়ে যান। কিন্তু ৬৩তম মিনিটে দৌড়ানো অবস্থায় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। চোটের তীব্রতা এতে বেশি ছিল যে, জুতা আর ডান পায়ে রাখতে পারেননি তিনি। সে সময় দেখা যায় মেসির ডান পায়ের গোড়ালি ফুলে খুবই বাজে অবস্থা।
সেটি নিয়ে ডাগআউটে বসে অঝোরে কাঁদতে থাকেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। মাঠ ছাড়ার সময়ও তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ জানান, ওই অবস্থায়ও দলের সঙ্গে মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক।
স্ক্যালোনি বলেন, ‘লিওর মাঝে এমন কিছু আছে, যা সবার থাকা উচিত। সে ইতিহাসের সেরা এবং গোড়ালির এই অবস্থা নিয়েও সে মাঠ ছেড়ে যেতে চাইছিল না। বিষয়টা এমন না যে, সে স্বার্থপর। (সে যেতে চায়নি) কারণ সতীর্থদের হতাশ করে একা ছেড়ে দিতে চায়নি। মাঠে থাকার জন্যই তার জন্ম হয়েছে।’
মেসিকে আজ রাতে শিরোপাহীন দেখতে চাননি জানিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলা ডি মারিয়া বলেন, ‘মেসির ইনজুরি ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল। যখন সে বিরতিতে গেল, সে উঠে যেতে অস্বীকৃতি জানাল এবং কোচকে বলে দাঁড়িয়ে থাকা পর্যন্ত সে খেলতে চায়। তার কাছে যা ছিল সবটাই দিয়েছে।’
এদিন নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে দলকে জয় এনে দেন। টানা দ্বিতীয় কোপা শিরোপা জয়ের উন্মাদে ভাসে আর্জেন্টাইনরা।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ জুলাই ২০২৪,/বিকাল ৫:২০