আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোববার (১৪ জুলাই) হুতি আন্দোলনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের প্রধান মাহদি আল-মাশাতের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সানা ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার আশা প্রকাশ করেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোনালাপে ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহদি আল-মাশাত ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা এবং ইরানের জনগণের অবস্থানের প্রশংসা করেন।
ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফিলিস্তিনি জনগণের হয়ে সাহায্য করার জন্য ইয়েমেনি সরকার এবং জনগণের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,আমরা দেখেছি যে কিছু মুসলিম দেশ (গাজা যুদ্ধ নিয়ে) তাদের তথাকথিত স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করেছে এবং শুধু বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে। ইয়েমেন ছিল সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এই অঞ্চলে অপ্রীতিকর ঘটনার মূল কারণ হলো ইহুদিবাদী শাসনের উপস্থিতি ও পশ্চিমাদের ধ্বংসাত্মক নীতি। ইয়েমেন এবং ইরানের সম্পর্ক খুবই গভীর। আমরা আশা করি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
এদিকে ইসরাইলি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সফল অভিযানের দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, এডেন উপসাগরে ইসরাইলি জাহাজ এমএসসি ইউএনআইএফআইসি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। গাজা উপত্যকার মানবিক জোন খান ইউনিসে ইসরাইলি বিমান হামলার প্রতিবাদে এ অভিযান চালানো হয় বলে উল্লেখ করেন হুতি মুখপাত্র।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনিবার (১৩ জুলাই) খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি শহরের একটি ‘মানবিক এলাকায়’ ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৯০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে শুরু করে গত কয়েক মাস ধরে লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথগুলোতে ইসরাইল ও পশ্চিমা জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হুতিরা। তাদের দাবি, যে জাহাজগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক রয়েছে, সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে তারা। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এখন পর্যন্ত হামলায় ৩৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ জুলাই ২০২৪,/বিকাল ৫:১৮