স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলের পাওয়ার হাউজ বলা হয় ইউরোপকে। আর দক্ষিণ আমেরিকার খ্যাতি বিশ্বসেরা ফুটবলারদের আঁতুড়ঘর হিসেবে। এই দুই মহাদেশের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই লা ফিনালিসিমা। ২০২২ সালের জুনে লা ফিনালিসিমায় মুখোমুখি হয়েছিল আগের বছর কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যম্পিয়ন ইতালি। সেই ম্যাচে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এমবাপ্পেকে মোক্ষম জবাব দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
লাতিনদের শ্রেষ্ঠত্বের ঝাণ্ডা পরে বিশ্বকাপেও উড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার নতুন করে বাজছে লা ফিনালিসিমার দামামা। গতকাল রোববার (১৪ জুলাই) রাতে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। আর আজ সকালে কলম্বিয়াকে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো খেলায় ১-০ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। এই দুই দল আগামী বছর মুখোমুখি হবে লা ফিনালিসিমায়।
লা ফিনালিসিমা এবার আকর্ষণ ছড়াচ্ছে এক দ্বৈরথের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে। স্পেনের জার্সিতে এবারের ইউরো মাতানো তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের ও কিংবদন্তি লিওনেল মেসির দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে আছে সবাই। বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলারদের একাডেমি লা মাসিয়া বিখ্যাত সেরা সব ফুটবলারের আঁতুড়ঘর হিসেবে। মেসি আজকে যে অবস্থানে তার পেছনে বড় অবদান লা মাসিয়ার। একাডেমিটির ইতিহাসের সেরা ছাত্র তিনিই। ফুটবলে বার্সেলোনার শ্রেষ্ঠ অর্জনের অধিকাংশই তার হাত ধরেই এসেছে। এই একই একাডেমিতে বেড়ে ওঠা ইয়ামালেরও। এমনকি ইয়ামালের শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তরুণ মেসিও।
বার্সেলোনায় সেই ফটোশ্যুটে তরুণ মেসি ও শিশু ইয়ামাল। এবারের লা ফিনালিসিমায় তাদের লড়াই দেখা যেতে পারে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
২০০৭ সালে বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যু’র ভিজিটরস লকার রুমে আয়োজন করা হয়েছিল এক ফটোশ্যুটের। সেখানেই মেসির সঙ্গে শিশু ইয়ামালের কিছু ছবি তোলা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’ এবং ইউনিসেফের পরিচালনায় বার্ষিক চ্যারিটির অংশ হিসেবে ক্যালেন্ডারের জন্য বার্সার খেলোয়াড়রা কয়েকটি পরিবারের শিশুর সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন। শিশু ইয়ামালকে গোসল করিয়ে দেয়ার ছবিটি সম্প্রতি তার বাবা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলে রাতারাতি ভাইরাল হয়।
এরপরই শুরু হয়েছে মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয় তার। এরপর থেকেই প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। মেসির মতোই বাঁ পায়ের এই খেলোয়াড় গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন। ইউরোর আগেই স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এবারের ইউরোয় গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পাঁচটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। পেলের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে কম বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে শিরোপা জিতেছেন। ইউরোয় তার খেলা দেখে সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি লিনেকার বলেছেন, ‘একজন মহাতারকার জন্ম হলো।’
সেই ইয়ামাল মেসির বিপক্ষে ফিনালিসিমা খেলতে মুখিয়ে আছেন। ইউরোর ফাইনালের আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি চাইবো মেসি কোপা আমেরিকা জিতুক সঙ্গে আমি যেন ইউরো জিততে পারি এবং ফিনালিজিমার ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে পারি।’ ইয়ামালের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে অবশেষে। তবে সে জন্য মেসির আপাতত অবসরের চিন্তা মাথায় আনা চলবে না। বার্সেলোনায় নিজের উত্তরসূরির স্বপ্ন পূরণের জন্য হলেও আর্জেন্টিনার জার্সি সহসা খুলে রাখার উপায় নেই মেসির।