সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

কলেজছাত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪
  • ৯৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : যৌতুকের দাবিতে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্রী তানজিলা আক্তার তাহেরাকে (২১) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জিসান আহমেদের (২১) বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে জিসান আহমেদকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় তানজিলার বাবা তোবারেজ মোল্লা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে জিসান শহরতলীর গঙ্গাবর্দী এলাকার মারকাজ মসজিদের পাশের ভাড়াবাড়িতে তানজিলাকে পিটিয়ে আহত করে আত্মহত্যার চেষ্টা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিটন গাঙ্গুলি তানজিলার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানজিলার মৃত্যু হয়।

নিহত তানজিলা আক্তার তাহেরা ফরিদপুর সদরের ডোমরাকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের তোবারেজ মোল্লার মেয়ে। প্রায় ৫ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক করে সদরের পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার জাহিদ ফকিরের ছেলে জিসান আহমেদের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়।

তোবারেজ মোল্লা বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার মেয়ের ওপর জিসান ও তার মা জাবেদা বেগম নির্যাতন করতেন। জিসানকে মোটরসাইকেল দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিত। আবার জিসানকে বিদেশে পাঠাবে বলে টাকা চেয়ে পাঠাতো আমার মেয়েকে দিয়ে। আমার মেয়ে এ বিষয়টাতে সায় দিত না বলে গত দুই মাস আগে মেরে হাসপাতালে ভর্তি করে। তার সব ডকুমেন্ট আমি থানায় জমা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে আমার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। রাত ১২টার দিকে আমার মেয়ের নম্বর দিয়ে জিসানের এক বন্ধু ফোন করে বলেন- তানজিলা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল আমরা তাকে মেডিকেলে ভর্তি করেছি। রাতে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি।

তানজিলার বাবা বলেন, আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জিসান নেশাগ্রস্ত ছিল। যৌতুক না পেয়ে আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ভাড়া বাড়িতে থাকার আগে যখন শ্বশুরবাড়ি ছিল তখন বাড়ির লোকজনও তাকে পিটিয়ে আহত করেছে।

জিসানের মা জাবেদা বেগম বলেন, জিসান ও তানজিলা দুজন ভালবেসে বিয়ে করেছিল। তাকে কেন নির্যাতন করতে যাবে। আর আমিও কখনো যৌতুকের জন্য তানজিলাকে নির্যাতন করিনি। জিসান বাড়ির বাইরে একজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য রাত অবধি অপেক্ষা করছিল। রাত ১০টার পরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় টাকা না নিয়েই। বাড়িতে গিয়ে সে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। পরে দরজা ভেঙে জিসান দেখতে পায় তানজিলা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তারপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন বলেন, জিসান ও তানজিলার মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। যৌতুকের জন্য তানজিলার ওপর নির্যাতন করা হতো। জিসানের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তানজিলার শরীরে অস্বাভাবিক কিছু জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা একটি অভিযোগ প্রদান করেছেন। আমরা জিসানকে আটক করেছি। অনেক দিক বিবেচনা করে আমরা এগোচ্ছি। তবে এখনই এটিকে হত্যা বলতে পারছি না। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে বলা যাবে। আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/১১ জুলাই ২০২৪,/রাত ৯:২৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit