মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত ১৪ দিনে প্রবাসী আয় এলাে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব : রাষ্ট্রপতি আবাসিকসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের আশুলিয়ায় শ্রমিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ  সালিশ বৈঠকে যুবককে হত্যা, একজনের যাবজ্জীবন, একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার চলবে ১৫দিন শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে ফ্রান্স ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া পথ নেই আরব দেশগুলোর: বিশ্লেষক শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে: প্রধানমন্ত্রী

যে সময়ে ইবাদতের সওয়াব সবচেয়ে বেশি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০২৪
  • ৭৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : অনুকূল পরিবেশ বা পরিস্থিতি মানুষের কাজকর্ম ও মনমানসিকতায় বিরাট প্রভাব ফেলে। সমসাময়িক ও কাছের মানুষজন যদি দ্বিনের ব্যাপারে সচেতন থাকে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলে তাহলে নিজেরও দ্বিনের ওপর অটল থাকা সহজ হয়। আবার এই মানুষগুলোই যদি উদাসীন হয় এবং আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে, তখন দ্বিন মেনে চলা কঠিন হয়ে যায়। কেননা এ অবস্থায় দ্বিনের ব্যাপারে অনুসরণীয় সচেতন ব্যক্তিদের সংখ্যা কমে যায়।

ইমাম তাবরানি (রহ.) ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেন, ‘ফিতনার সময়ে ইবাদত করা আমার কাছে  হিজরত করে আসার সমতুল্য।’ (আল-মুজামুল কাবির, হাদিস : ৪৯২)

মূলত এই হাদিসের মাধ্যমে নবী করিম (সা.) আমাদের জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি যথা—গণহত্যা, ফিতনা ও অলসতার সময়ের ইবাদত হিজরতের সওয়াব সমতুল্য।

উপরোক্ত হাদিসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইবাদতে মগ্ন থাকাকে হিজরতের সঙ্গে তুলনা করা প্রসঙ্গে হাদিসের ইমামরা বিভিন্নভাবে এর বিশ্লেষণ করেছেন।

১. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম মুনাবি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার যুগের ইবাদত অধিকতর সওয়াবের তুলনায় নবীজির নিকট হিজরত করার মতো। অথবা বলা যেতে পারে, ইসলামের শুরু যুগে সামর্থ্যহীনতার কারণে মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল খুবই অল্প। তেমনিভাবে ফিতনার সময় ইবাদতকারীদের সংখ্যাও হবে অল্প।’ (ফয়জুল কাদির, বর্ণনা : ৫৬৬২)

২. ইমাম ইবনুল আরাবি (রহ.) বলেন, ‘এ হাদিসে হিজরতের সঙ্গে তুলনা দেওয়ার কারণ হলো ইসলামের শুরু যুগের মুহাজিররা দারুল কুফর ও তার অধিবাসীদের ত্যাগ করে দারুল ঈমান ও তার অধিবাসীদের নিকট হিজরত করতেন। তেমনিভাবে ফিতনার যুগে মানুষ ওই ফিতনা সৃষ্টিকারী সম্প্রদায় ও সময়কে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দ্বিন রক্ষার্থে ইবাদতের আশ্রয়ে পলায়ন করবে।

৩. ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনার সময়ে সমস্ত মানুষ ইবাদত থেকে উদাসীন ও অনাগ্রহী থাকে। কেবলমাত্র মুষ্টিমেয় কিছু লোক দ্বিনের ওপর অটল থাকে। তাই তাদের এই ইবাদত হিজরতের সমতুল্য।’ (শরহুন নববি, বর্ণনা : ২৯৪৮)

৪. হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনার যুগে সাধারণত মানুষ নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে থাকে। দ্বিনের প্রতি উদাসীন থাকে। তাদের অবস্থা তখন জাহেলি যুগের মানুষের মতো হয়ে যায়। বেশির ভাগ মানুষ তো পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। তবে কিছু লোক দ্বিনের ওপর অবিচল থাকে, নিজ প্রভুর ইবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি তালাশ করে এবং অসন্তোষের কাজ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। মূলত তাদের অবস্থার তুলনা এ হাদিসে। অর্থাৎ জাহেলি যুগের কাফিরদের মধ্যে থেকে কেউ আল্লাহর নবী (সা.)-এর সব আদেশ-নিষেধ মানার প্রতিজ্ঞা করে তাঁর নিকট হিজরত করে এসেছে, ঠিক ফিতনার যুগে ইবাদতকারী ব্যক্তির অবস্থাও এই ঈমানদারের মতো।’ (লাতাইফুল মাআরিফ :  ১/১৩২)

৫. ইমাম ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেন, ‘যখন ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে তখন মানুষের মনেও গাফিলতি ছেয়ে যায়। এ অবস্থায়ও যদি কেউ ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে তাহলে এটা আল্লাহর সঙ্গে বান্দার মজবুত বন্ধনের প্রমাণ বহন করে। তাই এর প্রতিদান এত বেশি।’ (কাশফুল মুশকিল : ২/৪২)

তাই অনুকূল পরিবেশের ন্যায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আল্লাহর প্রিয় ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়া একজন মুমিনের জন্য একান্ত কর্তব্য। কারণ আল্লাহ তাআলার মানুষকে সৃষ্টি করার প্রধান উপলক্ষ হলো তাঁর ইবাদত করা। এ মর্মে তিনি বলেন, ‘আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৪ জুলাই ২০২৪,/বিকাল ৫:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit