মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে ত্যাগের মহিমায় ঈদ উদযাপন

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪
  • ২৭২ Time View

তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রতিবছরের মতো এবারও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে কোরবানির গোশত বিলিয়ে দিয়ে অন্যরকম ঈদ পালন করলো পৌরশহরের সাধুপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদ ভিত্তিক মুসলিম সমাজ। এবার ওই এলাকার ১৬৮টি পরিবারের মধ্যে এ গোশত বিলিয়ে দেয়া হয়।

সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন বিকেল থেকেই ওই এলাকায় যারা কোরবানি দিতে পারেননি বা লোক লজ্জার কারনে কারো বাড়িতে বা অন্য কোথাও গোশত আনতে যেতে চান না, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই এ ধরনের পরিবার গুলোর তালিকা করা হয়। আবার কারো কারো বাড়িতে বাইতুল মামুর জামে মসজিদের সেচ্ছাসেবকগন চুপিসারে গিয়ে পৌঁছে দেন কোরবানির গোশত।

কোরবানি ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই চলতে থাকে এই কাজ। ঈদের দিন নামাজ শেষে ওই এলাকার বিত্তশালীগন নিজ নিজ কোরবানি শেষ করেন। পরবর্তিতে কোরবানি শেষে বাইতুল মামুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে সেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কোরবানি করতে না পারা মানুষদের জন্য গোশত আসতে থাকে। পরে সকল গোশত একত্রে করে শুরু হয় প্যাকেট করার কাজ। নির্ধারিত তালিকা মোতাবেক চলে বিতরণ। কোন কোন সময় ঈদের দিন সকল বিতরণ করা সম্ভব না হলেও ঈদের পরের দিন ওই গোশত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দেন নির্ধারিত বাইতুল মামুর জামে মসজিদের সেচ্ছাসেবকগন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোশত নিতে আসা একজন বলেন, আমি শরিকের মাধ্যমে কুরবানি দিতাম কিন্ত গত দু‘বছর হলো ব্যবসা করতে গিয়ে আমি বড় ধরনের লস করেছি। যে কারনে আর কুরবানি দিতে পারি না। লোক লজ্জার ভয়ে কারো কাছে গোশত চাইতে যেতেও পারি না। কুরবানি ঈদের দিন বাড়ি থেকে বের হইনা। লোকচুক্ষুর আড়ালে সাধুপাড়া সমাজের মানুষ এবারও আমার বাড়িতে কুরবানির গোশত পাঠিয়ে দিয়েছে। এ যেনো এক অন্যরকম ঈদ আনন্দ উপভোগ করছি।

এ সময় উদ্যোক্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে আমাদের পরিবারের মাধ্যমেই শুরু করেছিলাম এ কাজ। পরবর্তিতে ২০১৬ সন থেকে সাধুপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদ উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে সামাজিক ভাবেই এ কাজ শুরু করে ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে ভাগাভাগি করে নেই।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ২০১৬ সাল থেকে সাধুপাড়া সমাজের মাধ্যমে এই কাজ শুরু করেছি। সমাজের সকল যুবকরাই এ কাজে সহায়তা করে থাকে। ঈদের নামাজ শেষে কুরবানি করে সমাজে কুরবানি দিতে না পারা এমন পরিবারে গোশত বন্টনের কাজ শুরু করি। প্রতি বছরের মতো এবারও ১৬৮ পরিবারের মধ্যে দেয়া হয়েছে এ গোশত। এধরনে কাজ উপজেলার সকল এলাকায় শুরু হলে ঈদের আনন্দ পুনাঙ্গতা পাবে।এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রভাষক মাহবুবুল আলম, আব্দুল লতিফ তালুকদার, আব্দুল মতিন ফকির, হাফিজ উদ্দিন সৈয়াল, মো. আমজাদ হোসেন, মো. ফজলুল হক প্রমুখ।

কিউএনবি/অনিমা/১৮ জুন ২০২৪,/ দুপুর ২:৫৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit