জালাল আহমদ,ঢাবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রানলয় কর্তৃক গত ১৩ মার্চ জারিকৃত (এস.আর.ও নং-৪৭-আইন/২০২৪) পেনশন সংক্রান্ত একটি বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ব্যানারে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো.আব্দুল মোতালেব এবং সঞ্চালনা করেন ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাবির ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো: মোবারক হোসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হান্নান মিজি, ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম মিয়া, কারিগরী কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো: নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো: শামসুল আলম বাদল, কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন, সভাপতি মোঃ ছারোয়ার মোর্শেদ। সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছরোয়ার হোসেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন,“এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ চরম বৈষম্যের শিকার হবেন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। একই বেতন স্কেলের আওতাধীন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভিন্ন নীতি সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এছাড়া স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্বায়ত্বশাসন প্রদান করে শিক্ষা ও গবেষণাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন।শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন বলেই ধারাবাহিকতায় আরো স্বায়ত্বশাষিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
এই প্রজ্ঞাপন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষাদর্শনের প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শন এবং ১৯৭৩ এর আদেশ অমান্য করা হয়েছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ মনে করে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দুরভিসন্ধি রয়েছে কিনা সেটাও ভেবে দেখা দরকার।দাবি আদায়ে আগামী ৪ জুন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে।তবে জরুরি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবেন।ইদুল আযহার পূর্বে সরকার এই দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ অর্থমন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/৩১ মে ২০২৪,/দুুপুর ১২:৩২