শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

আপত্তিকর অবস্থায় পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা আটক, অতঃপর…

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪
  • ১০৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে পরকীয়ার জেরে আপত্তিকর অবস্থায় নারীসহ মিন্টু নামের এক জুয়াড়িকে আটক করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার কাশিমপুরের সারদাগঞ্জের কুদ্দুস মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সারদাগঞ্জের কুদ্দুস মার্কেট এলাকার মৃত মোশাররফ হোসেনের বাসভবনে দীর্ঘদিন ধরে শাহাবুদ্দিন ওরফে মিন্টু ওরফে জুয়াড়ি মিন্টু নামে এক জুয়াড়ি আসা-যাওয়া করত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোশাররফের স্ত্রীর রুমে গেলে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসী মিন্টুকে আটক করেন।

মিন্টু সিরাজগঞ্জ জেলার আহমেদ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরের ৪নং ওয়ার্ডে জমি ক্রয় করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল। গত কয়েক বছর আগে মোশাররফ মারা গেলে তার সঙ্গে মিন্টুর বন্ধুত্ব সম্পর্কের সুবাদে বাসায় যাতায়াত করতেন। 

মিন্টুকে আটককৃত বাসভবনের পাশেই মেম্বার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিকালের দিকে একটি ফোন এলে কয়েকজন মুসল্লিকে নিয়ে কুলসুমের বাড়িতে গিয়ে তাদের ডাকলে একই রুম থেকে তারা বেরিয়ে আসে। এর আগেও একদিন রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত মিন্টুকে একই বাসা থেকে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসী আটক করে গণপিটুনি দিয়ে আর এদিকে না আসার শর্তে ছেড়ে দেয়। 

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে তাদের দুজনের এই অসামাজিক পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এদিকে ঘটনার দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যখন এলাকাবাসী তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই মিন্টুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মনির হোসেন ওরফে বোটকা মনির নামে এক ব্যক্তি ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ ঘটনার বিচার করবে বলে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায় কাউন্সিলরের অফিসে। পরে মিন্টু ও কুলসুমকে নিয়ে এক সালিশি দরবারে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আতাউর রহমান সিদ্ধান্ত জানায় যে, মিন্টু আর কোনো দিন কুলসুমের বাড়ির আশপাশে আসতে পারবে না। আর কুলসুমকে নিজ বাড়ি ছেড়ে ঢাকা/অন্যত্র চলে যেতে হবে। কাউন্সিলরের এমন রায়ে হতবাক এলাকাবাসী। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মিন্টুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মনির, গফুর ওই কাউন্সিলরের মাধ্যমে এমন একতরফা রায় নিয়ে আসে। 

এ ঘটনায় অসামাজিক কাজ নিয়ে মিন্টু ও কুলসুম অস্বীকার করে বলেন, আমরা দুজন একই পীরের মুরিদ, সে ক্ষেত্রে আমরা ভাইবোনও বটে। ভাইবোন হিসেবে আমার কাছে আসতেই পারে। 

বুধবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলর কাজী আতাউর রহমানের কাছে এই বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনির নামের এক লোক তাকে ধরে নিয়ে এসেছে, পরে আমি নারীকে এলাকা ছাড়ার রায় দিয়েছি। তার ছেলে বিদেশ থেকে এলে এবং মেয়ের পরীক্ষার পরই তাদের রায় কার্যকর হবে। একই অপরাধে নারীকে কেন শাস্তি দেওয়া হলো আর অভিযুক্ত মিন্টুকে বাড়ি ছাড়ার কোনো শাস্তি দেওয়া হলো না— এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই কাউন্সিলর বলেন, এলাকাবাসীর দাবির মুখে আমি এ রায় দিয়েছি।

কিউএনবি/অনিমা/২৩ মে ২০২৪,/বিকাল ৩:২৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit