ডেস্ক নিউজ : না। বাবার হারাম উপার্জন মিরাস হিসেবে সন্তানদের জন্যও হালাল হবে না। বরং তাদের জন্য করণীয় হলো, প্রথমে হারাম উপার্জনের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদের হিসাব কষা। তারপর যদি সম্পূর্ণ মালই হারাম হয় তাহলে সেগুলো যথাযথ মালিককে ফেরত দেওয়া। যদি মালিক খুঁজে পাওয়া না যায় যেই পরিমাণ সম্পদ সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া কোনো গরীব অসাহয়কে সদকা করে দেওয়া।
আর যদি মাল হালাল হারাম মিশ্রিত থাকে তাহলে হারাম সম্পদকে আলাদা করে উপারোক্ত নিয়মে সেগুলোর হয়তো মালিককে ফেরত দেওয়া অথবা সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেওয়া। তাহলে বাবার পুরো সম্পত্তি (হারাম দূর করার/সদকা করার পর) সন্তানদের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ হবে। তা নাহলে নয়।
হালাল উপার্জন ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত। হালাল উপার্জন না হলে ইবাদত আমল কিছুই আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। তাইতো দেখা যায়, নবীরা হালাল উপর্জনের জন্য কায়িক শ্রমের কাজ বেশি করেছেন। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) কৃষি কাজ করতেন। হজরত নূহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। হজরত ইদ্রিস (আ.) দর্জির কাজ করতেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) রাজমিস্ত্রি ছিলেন। হজরত ইসমাঈল (আ.) রাজমিস্ত্রির সহযোগী ছিলেন।
আমাদের প্রিয় নবি প্রিয় হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছাগল চরিয়েছেন ও ব্যবসা করেছেন। কারণ আল্লাহতায়ালা বলেছেন, হে রসুলরা! তোমরা হালাল পবিত্র উত্তম রিজিক খাও আর সৎকর্ম করো। (সুরা মুমিনুন : ৫১) তা ছাড়া মুসলিম জাহানের চার খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) ব্যবসা করেছেন। হজরত ওমর (রা.)ও ব্যবসা করেছেন। হজরত ওসমান (রা.) কাপড়ের ব্যবসা করেছেন। হজরত আলী (রা.) কিছু খেজুরের বিনিময়ে কূপ থেকে পানি ওঠানোর কাজ করতেন। সব মোমিনদের উদ্দেশ্যে আল-কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা হালাল উত্তম রিজিক আহার করো, যা আমি তোমাদের দিয়েছি।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ মে ২০২৪,/দুপুর ১:১৯