বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রশাসনের অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি জলাশয় ভরাট। জলাশয়টি ব্যক্তি মালিকানার জায়গা দাবি করে রাতের আধারে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে ও সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের একজনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালু ভরাট কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের কিছু অংশ নষ্ট করে ফেলা হয়। তবে এরই মধ্যে ওই জলাশয়ের নিচের দিকে বেশিরভাগ অংশ ভরাট করে ফেলা হয়।
ভুমি অফিসের একটি নথিতে দেখা গেছে ভরাট করে ফেলা ওই জায়গাটি চলার পথ, যা ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এর ঠিক সামনেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়। এর উল্টোদিকে রয়েছে একটি খাল। তবে ওই খালেরও অনেকটা জায়গা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ভরাট করার পরও কিছু অংশে পানি দেখা যায়। ওই জায়গা বেশ কিছু শিশু শিক্ষার্থীকে খেলা করতে দেখা যায়।
কথা হয় ভরাটের সঙ্গে যুক্ত আবেদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের অভিযানের পর আমরা আর বালু ফেলেনি। জায়গাটি আমাদের নিজস্ব। স্কুলের মাঠের জন্য এখান থেকে মাটি দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন জলাশয় হয়ে যাওয়ায় অনুমতি না নিয়ে ভরাটের কারণে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। তারা বলছে ভরাটের অনুমতি লাগবে।’
মো. রহমান নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। স্কুলের জন্য এখান থেকে মাটি দেওয়া হয়েছে। আমাদের জমির উপর দিয়ে সেচের নালা গেছে। এখন কেন অভিযোগ করা হচ্ছে কিংবা প্রশাসন কেন অভিযান চালালো তা বোধগম্য নয়। তবে জায়গাটি ভরাট করতে একটি পক্ষ আমাদের কাছে বালু বিক্রি করতে চেয়েছিলো। সেটি তারা করতে পারেনি বিধায় নানা জায়গায় অভিযোগ করছে।’
নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন ভুমি অফিসের নায়েব মো. রাসেল এ প্রসঙ্গে জানান, অনুমতি না নিয়ে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। তবে যতদূর জানি জরিমানা করার পর জায়গাটিতে আর বালু ফেলা হয়নি।