স্পোর্টস ডেস্ক : গত গ্রীষ্মে টেস্ট চ্যাম্পিয়শিপের ফাইনাল জিতে নেয়ার পর ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ ধরে রাখতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর গত অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় তারা। এই অস্ট্রেলিয়ার পতনের সম্ভাবনার কথা তুললে শক্ত ক্রিকেটীয় যুক্তি থাকা চাই। মাইকেল ভনও যুক্তি দেখিয়েছেন, কীভাবে পতন হতে পারে কামিন্সের দলের।
অস্ট্রেলিয়ার পতনের সম্ভাবনার কথা ভন জানিয়েছেন সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লেখা কলামে। সেখানে শুরুতেও তিনি টেনেছেন সম্প্রতি শেষ হওয়া পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ দুটির প্রসঙ্গ। এই গ্রীষ্মে এই দুই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে এমন পূর্বাভাস ছিল না। কারণ, সফরকারী পাকিস্তান ও ক্যারিবীয়দের রেকর্ড সেখানে খুবই বাজে কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে দল দুটি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে অজিদের সঙ্গে। পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশ হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ড্র করে ফিরেছে। ২৭ বছরের মধ্যে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে ক্যারিবীয়রা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এই হারটিকেই পতনের লক্ষণ মনে করছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া দারুণ দল, কামিন্সও দুর্দান্ত নেতা। যখন খেলা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো সেশন দরকার পড়ে, তারা সেটি ঠিকই খুঁজে বের করে। এ কারণেই ব্রিসবেনে তাদের হারতে দেখাটা অবাক করেছে আমাকে। ২০২৫-২৬ অ্যাশেজে যে ইংল্যান্ডের দারুণ সুযোগ থাকছে, এটি তারই লক্ষণ।’
ইংল্যান্ডের সুযোগ বেশি থাকার আরও একটি কারণ দেখছেন ভন। সেটি হচ্ছে অজি তারকাদের বয়স। ভন বলেন, ‘সে সময় (অ্যাশেজের সময়) অস্ট্রেলিয়া ক্লান্ত দলে পরিণত হবে বলে মনে হচ্ছে। গ্রেট খেলোয়াড়দের যে দলটা আছে, ডেভিড ওয়ার্নার সেখান থেকে সবার আগে আবসর নিয়েছেন। অন্যদের বয়সও ত্রিশের কোটায় আছে। বয়সটা তাদের জন্য উদ্বেগের। এই গ্রেট ক্রিকেটাররা সইব জিতে গেছে, নতুন করে আর তাদের কী অনুপ্রাণিত করবে?’
অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি চিন্তার বিষয় নাথান লায়নের উপযুক্ত বদলি এখনও খুঁজে না পাওয়া। এক যুগের বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণ এক হাতেই সামলাচ্ছেন লায়ন। ৩৬ বছর বয়সী তারকা এরই মধ্যে পেশির ইনজুরিতে ভুগছেন। লায়নের বিকল্প খুঁজে বের করতে না পারলে অজিদের ভুগতে হবে বলে মনে করেন ভন। পেস আক্রমণ নিয়েও একই কথা তার মুখে।
তিনি বলেন, ‘ তাদের দুর্দান্ত বোলিং লাইন আপে নতুন কিছু মুখ অবশ্যই দরকার হবে। লায়নের কোনো বিকল্প তাদের হাতে এখনও নেই। অ্যাশেজের সময় তার বয়স হবে ৩৮, এরই মধ্যে সে মাংসপেশীর চোটে ভুগছে। তাদের হাতে এমন কেউ নেই যে অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে লায়নের কাজটা করতে পারবে। অ্যাশেজে মিচেল স্টার্কের বয়স হবে ৩৬, হ্যাজেলউডের ৩৫, কামিন্সেরও ৩২ হয়ে যাবে। এমন বয়সে তারা আগের মতো টানা পাঁচটি টেস্ট খেলতে পারবে না, চোটে পড়বেই।’
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও শঙ্কা দেখছেন ভন। স্টিভ স্মিথ ওপেনার হিসেবে সফল হলেও মিডল অর্ডারে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করা কঠিন হবে বলে মনে করেন ভন, ‘আমার মনে হয়, স্টিভ স্মিথ ওপেনার হিসেবে উসমান খাজার সঙ্গে দুর্দান্ত করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মিডল অর্ডার নিয়ে, যেখানে সে দুর্দান্ত ছিল। বুঝতে পারছি, কেন ক্যামেরন গ্রিনকে ৪ নম্বরে চাইছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার রেকর্ড দুর্দান্ত। তবে ইনিংসের শুরুতে অফ স্টাম্পের আশপাশের বলে সে খুবই দুর্বল।’