সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

অপহরণ চক্রের হয়ে কাজ করছেন গাড়ি চালকরা, সতর্ক ডিবির

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১০৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর উত্তরা থেকে শেরপুর যাওয়ার পথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান হিমেলকে অপহরণ করেছিল একটি চক্র। এক মাস আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছিল। সর্বশেষ আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সুনামগঞ্জের তাহিপুরের দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় হিমেলকে। এরপর অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ ১২ জনকে গ্রেফতরা করা হয়।

হিমেল অপহরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে এই অপহরণের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন ব্যক্তিগত গাড়ি চালক সামিদুল। এমন কি বিভিন্ন অপহরণ চক্রের সঙ্গে গাড়ি চালকদের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)’র অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিমেল অপহরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) লালবাগ বিভাগ তদন্ত করছিল। এই মামলার তদন্তে হিমেলের ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়। এই চালকই কিন্তু অপহরণের মূলহোতা। সামিদুল প্রথমে তুরাগ এলাকার হানিফ বাবুর্চি নামের এক সাইটের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর আলোচনা করেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার ইউপি চেয়ারম্যান মামুনের সঙ্গে। তিনি একাধিকবারের চেয়ারম্যান। হিমেলকে অপহরণ করে তার বাসায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়।

পরবর্তীতে হিমেলকে অপহরণ করে তার বাসায় নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পেতে দেরি হওয়ায় মামুন গাড়ি দিয়ে বর্ডার এলাকায় হিমেলকে পাঠায়। গাড়িতে করে হিমেলকে বর্ডারের একটি পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন সামিদুল ও মালেক, মোবারক, মানিককে নিয়ে চলে যায়। তখন থেকেই হিমেলের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

এরপর কাজ শুরু করে ডিবি লালবাগ বিভাগ। পরবর্তীতে শরীয়তপুরের চর অঞ্চল থেকে মাসুদকে গ্রেফতার করে ডিবি লালবাগ। মাসুদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে ময়মনসিংহের ধোবাউরা, নেত্রকোনা, দুর্গাপুর এরপর তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে সোর্স নিয়োগ করা হয়। এই সোর্সের মাধ্যমে ডিবি জানতে পারে এই গ্রুপটা শুধু অপহরণ করে না তারা চোরা চালানের সঙ্গে জড়িত।

পরবর্তীতে নির্যাতন করে ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো হিমেলের মায়ের কাছে। সর্বশেষ তারা ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু এরমধ্যে ডিবির চতুর দিক থেকে সাঁড়াশি অভিযানের কারণে তারা পেরে উঠতে পারেনি। পরে আমরা খবর পেলাম অপহরণকারীরা টাঙ্গুয়ার হাওরে আবারও অন্য একটি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। এমন খবর পেয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের একটি নৌকা থেকে হিমেলের গাড়ি চালক সামিদুল, ১৭ মামলার আসামি মালেকসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযানে র‌্যাবও সহযোগিতা করেছে।

গাড়ি চালকরা অপহরণ চক্রের হয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা বলব, ব্যক্তিগত গাড়ি চালক নিয়োগ করার আগে সতর্ক হতে হবে। কারণ এই ঘটনায় আমরা সামিদুলের মাধ্যমে দেখেছি তার মতো বহু চালক এই সকল অপহরণ চক্র ও সন্ত্রাসীদের কাছে তথ্য দিয়ে থাকে। গাড়ি চালকরা পরিবারের সদস্যদের বিষয় বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে। এই সকল তথ্যের কারণেই অনেক ঘটনা ঘটছে। 

গাড়ি চালকদের টার্গেট করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে হারুন বলেন, কেউ চাইলে তো কোনো ব্যক্তির তথ্য সহজে সংগ্রহ করতে পারে না। বড়লোকের সন্তান বা পরিবারের সন্তানকে অপহরণ করতে চায় তখন তারা তারা গাড়ি চালকদের ব্যবহার করে গুরত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে। হিমেলের ক্ষেত্রেও অপহরণ চক্রটি গাড়ি চালক সামিদুলকে টার্গেট করে। আর সামিদুলেরও টার্গেট ছিল বড় লোক হওয়ার তাই তারা সহজে তাকে ব্যবহার করতে পেরেছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৪:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit