রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘পাঁচ মাসে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’ হালান্ডদের বিপক্ষে বাজি হেরে হাডসন নদীতে নৌকা বাইলেন রুনি ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ বিজয়ীদের পুরো তালিকা পাল্টা হামলায় ইরান কী করতে পারে, তার উদাহরণ কুয়েত : বিশ্লেষণ অগ্নিকাণ্ডে দম্পতির সঙ্গে পুড়ে মারা গেল ৭৩টি বিড়াল ইরান কেন এবার জর্ডানকে টার্গেট করল? আপ্লুত মেসি, ইনস্টা-ভিডিওতে কি বার্তা দিলেন? আগস্টে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার সেই দুঃখ গাঁথা অমরত্বের তুলিতে মুছবার সুযোগ লিও’র সামনে সংঘাত-অভ্যুত্থান গুঞ্জনের মধ্যে ইরানি নেতাদের ওপর চড়াও কট্টরপন্থিরা

গুপ্তস্থানে নিয়োগবোর্ড! এমপির নির্দেশ উপেক্ষা করে গোপনে যোগদান

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১১৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গুপ্তস্থানে নিয়োগ বোর্ড করার অভিযোগ উঠেছে যশোরের মনিরামপুরে হাজরাকাটি আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে। তবে নিয়োগবোর্ড আয়োজন নিয়ে সুপার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সুপারের দাবি গুপ্তস্থানে নয়, মাদ্রাসার কক্ষে নিয়োগ কার্যক্রম করা হয়। অন্যদিকে মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দাবি করেছেন মাদ্রাসায় নিয়োগবোর্ড করা হয়নি, করা হয়েছে যশোর শহরের একটি স্থানে। তবে অভিযোগ উঠেছে আনুষ্ঠানিক কোন নিয়োগ বোর্ড করা হয়নি। বোর্ডের সদস্যদের ম্যানেজ করে খাতা কলমে স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাকডেটে(৫ জানুয়ারি) নিয়োগ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হবার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য নিয়োগবোর্ড বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সংসদ সদস্যের নির্দেশ উপেক্ষা করে এমনকি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে গোপনে বৃহস্পতিবার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যোগদান করেছে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নৈশ্য প্রহরী সোহাগ হোসেন। আর এ বিষয়টি জানাজানি হবার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানাযায়, মনিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শুন্যপদে একজন নৈশপ্রহরী নিয়োগের জন্য প্রায় ছয়মাস আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। কিন্তু গতবছর জুয়েল রানাকে নিরাপত্তাকর্মী ও সুকতারা খাতুনকে আয়া পদে নিয়োগ দিয়ে সভাপতি গোলাম মুক্তাদির মন্টু ও সুপার আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এরই মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষনা করা হয়। আর তখনই সভাপতি ও সুপার পুনরায় নিয়োগের তোড়জোড় শুরু করেন।অবশ্য এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের হস্তক্ষেপে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন নিয়ে যখন সবাই ব্যস্ত। তখন ৫ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড গঠনের ঘোষনা দেওয়া হয়। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন রয়েছে নিয়োগবোর্ড করতে হবে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে। কিন্তা তা না করে গোপনে গুপ্তস্থানে বোর্ড করা হয়। সুপার আব্দুস সামাদ জানান, ৫ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০ টায় মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসী জানিয়েছেন মাদ্রাসায় কোন বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়নি।

এমনকি বোর্ডের সদস্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, বোর্ড করা হয় যশোর শহরের একটি স্থানে। অপরদিকে ডিজি প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ জেলার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেন বলেন, নিয়োগবোর্ড তো প্রতিষ্ঠানেই হবার কথা ছিল, কিন্তু কোথায় হয়েছিল এই মুহুর্তে আমার মনে নেই। কিন্তু সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, অভিভাবক আবু সাইদ, মিজানুর রহমানসহ একাধীক ব্যক্তি জানান, প্রকৃতপক্ষে কোন নিয়োগ বোর্ডের আয়োজন করা হয়নি। খাতা কলমে ৫ তারিখে বোর্ড দেখিয়ে সদস্যদের ম্যানেজ করে গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নিয়োগে স্বাক্ষর করিয়েছেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন কতিথ এ নিয়োগবোর্ড বাতিল করার। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সংসদ সদস্যের নির্দেশ উপেক্ষা করে এমনকি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে বৃহস্পতিবার গোপনে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যোগদান করেছে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নৈশ্য প্রহরী সোহাগ হোসেন। সুপার আব্দুস সামাদ তার যোগদানের সত্যতা স্বীকার করেছেন। সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলী জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়োগ বাতিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে। কিন্তু নিয়োগ বাতিলের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, যোগদানের বিষয়টি আমি জানিনা। তবে তার এমপিওর(বেতন)জন্য সুপারিশ করা হবেনা। নিয়োগ বোর্ডের অপর সদস্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম মুক্তাদির মন্টু বলেন, যে ভাবেই হোক নিয়ম মেনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে তা মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে।

কিউএনবি/অনিমা/০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪/রাত ৮:৩১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit